ad

রোহিঙ্গা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

বাংলা ট্রিবিউন::
টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন জড়িত। ধর্ষণের শিকার কিশোরী টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২২-এর বাসিন্দা।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে পরিচালিত সেনা অভিযানের মুখে ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

র‌্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহাতাব বলেন, এক রোহিঙ্গা কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত হচ্ছে।

ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে কিশোরীর বোন আজিদা বলেন, ‘স্থানীয় শাহজান নামে এক ব্যক্তি ভিক্ষা দেওয়ার নাম করে ঘরে ঢুকিয়ে মুখ চেপে ধরে আমার বোনকে ধর্ষণ করেছে। ওর বয়স দশ বছর।’

তিনি বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীকে এনজিও’র লোকজন প্রথমে লেদা শরণার্থী শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা সেখানে ধর্ষণের প্রমাণ পায়। কিন্তু বোন এখন নিজের বাড়িতে রয়েছেন, তবে তার আরও চিকিৎসার প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২২-এর মাঝি আজিম উল্লাহ বলেন, ক্যাম্পের এক কিশোরী ভিক্ষা করতে গিয়ে রঙ্গিখালি এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রকিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘রোহিঙ্গা কিশোরী ধর্ষণের খবর এই মাত্র শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি লেদা ও আলীখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, এক রোহিঙ্গা কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে নতুন-পুরনো মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সদস্য বসবাস করছেন। এরমধ্যে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের সেনাবাহিনী ভয়াবহ অভিযান শুরু করলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন