রামুতে শিক্ষিকার নির্মম প্রহারের শিকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র

রামু সংবাদদাতা :
রামুতে অভিভাবক,শিক্ষক হেনস্ততার পর এবার একই শিক্ষিকার হাতে অমানবিক প্রহারের শিকার হয়েছেন তানজীদ ইসলাম শুভ ( ১৪) নামে অষ্টম শ্রেনির ছাত্র। অভিযোগ রয়েছে উক্ত শিক্ষিকা গত বছর একই স্কুলের মনিকা বড়ুয়া নামে এক অভিভাবককে হেনস্তা করেছেন। উক্ত ঘটনায় ভূক্তভোগী অভিভাবক বাদী হয়ে আদালতে মামলা( নং ৬২১৮) রুজু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রামু উপজেলার অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপিঠ রামু খিজারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে।
জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে গেলে প্রাত্যহিক সমাবেশে অংশগ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে উক্ত স্কুলের শিক্ষিকা নাজনীন আক্তার মেরী নির্মম ও অমানবিকভাবে ছাত্র শুভকে দোতলা ক্লাস রুম হতে বেত্রাঘাত করতে করতে নিচে নামিয়ে আসেন। পরবর্তীতে শিক্ষক মিলনায়তনে নিয়ে পায়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষকের প্রহারে আহত স্কুল ছাত্রের মাতা রামু উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী মনোয়ারা ইসলাম নেভী জানান, প্রতিদিনের মত আমার ছেলে স্কুলে যায় এবং ঐ দিন ক্লাস পরিস্কারের দায়িত্ব থাকায় আমার ছেলে দুতলা হতে নিচ তলায় আসতে দেরী হওয়ার অজুহাতে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করেছে। আঘাতে শরীরে রক্তাত্ত জখম ও মাথায় পছন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সে ঐ সময়ে ভয় ও লজ্জায় ক্লাস শেষ করে বাসায় এলে আমরা দেখতে পেয়ে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিই। তিনি আরও জানান, আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো শহীদ উল্লাহকে দেখাই এবং রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে গিয়ে না পেলেও বিষয়টি ফোনে জানানো হয়।
উক্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষিকা নাজনীন আক্তার মেরী জানান, ঘটনার ব্যাপারে ফোনে তিনি কিছু জানাতে পারবেন না বলে অপারগতা জানান এবং বিস্তারিত জানতে স্কুলে আসার অনুরোধ করেন।
কোমলমতি শিশু ছাত্রের উপর এমন আচরণের বিচারের দাবীতে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ ও এডিসি শিক্ষা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেও জানান।
এদিকে স্কুল শিক্ষিকা কর্তৃক ছাত্রের এমন আচরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উক্ত শিক্ষিকার শাস্তির দাবী জানিয়েছেন সকল শ্রেণির পেশাজীবিরা ।

ad