কভিড আক্রান্তের খবরে মাস্কের দাম বেড়েছে ৩০ গুণ

দেশে কভিড-১৯-এ আক্রান্তের খবর বের হতেই মাস্কের দাম বেড়ে গেছে ১০ থেকে ৩০ গুণ। এক টাকা চার পয়সার সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। কিছু দোকানে পাওয়াও যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় বাজারে মাস্কের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এই সুযোগে মাস্কের দামও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ১ টাকা ৪ পয়সার সার্জিক্যাল মাস্ক তিরিশ টাকা, ১৮ টাকার তিন লেয়ারের মাস্ক ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এন-নাইন্টি ফাইভ মাস্কের চাহিদা বেশি হওয়ায় মার্কেটে পাওয়া গেল তার নকলও।

সাধারণ মাস্কের চেয়ে জীবাণু প্রতিরোধক মাস্কের চাহিদা রাজধানীতে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার তোপখানা রোড এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্টের মার্কেটে এ ধরনের মাস্ক সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। সিনথেটিক কাপড় ফাইবার দিয়ে তৈরি এ মাস্কগুলোর স্বল্পতার পাশাপাশি দাম আগের চেয়ে হয়েছে ৩০ গুণ। এছাড়া ফুটপাতে হকারদের কাছেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা ও বিক্রির চাপ। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধের দোকানে মেডিকেটেড মাস্ক তো দূরের কথা সাধারণ মাস্কই পাওয়া যাচ্ছে না আর যা পাওয়া যাচ্ছে তার দাম কোথাও কয়েকগুন বেশি। বাংলাদেশে কভিড আক্রান্তের খবর পেয়েই মাস্ক কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতারা। অনেকে আবার স্যানিটাইজার কিনতে এসেছে কিন্তু সেটারও সংকট দেখা দিয়েছে।

এক বাসিন্দা বলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার আগে মাস্ক কেনার জন্য বাসার কাছে মিরপুরে ওষুধের দোকানে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। পরে একটা ওষুধের দোকানে সাধারণ ৫ টাকা দামের মাস্ক পেলাম কিন্তু দাম চাইলো ৩০ টাকা। না কিনে জাতীয় প্রেসক্লাবের উল্টোপাশে বিএমএ মার্কেটে মেডিকেটেড মাস্ক পেলাম যার মূল্য চাইলো ৯০ টাকা। এর আগে এই মাস্ক ৪০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। এখন দামের এই বিশাল ফারাক।

এক ক্রেতা বলেন, সবকিছুর দাম অনেক বেশি। ২০ টাকার মাস্ক ৫০ টাকা। আবার ৫০ টাকার মাস্ক ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক বাসিন্দা বলেন, সন্তানদের রক্ষা করতে হবে এই জন্য মাস্ক কিনতে আসলাম। কিন্তু মার্কেটে পাচ্ছি না।

দাম বেশি হওয়ার পরও মাস্ক কিনছেন ক্রেতারা। না পেয়ে অনেকে ফিরেছেন খালি হাতেও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ না বাড়লে সংকট আরও বাড়বে।

এক বিক্রোতা বলেন, আমার কাছে মাস্ক বেশি নাই আছে কয়েকটা। যেটা ওয়ান টাইম মাস্ক সে কোম্পানি আছে কয়েকটা। কিন্তু তারা আমাদের মাল দিচ্ছে না। আর আমরা কয়েকটা ব্রোকার থেকে মাল কিনছি। তারা আমাদের ১০/১২ টা বক্স দিচ্ছে সে অনুযায়ী আমরা চাহিদা পূরণ করতে পারছি না।

আরো এক বিক্রোতা বলেন, কোনো মাস্ক নাই অনেক সংকট তৈরি হচ্ছে।

তবে সবারই মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলে জানালো স্বাস্থ্য বিভাগ।

পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেন বলেন, সবার আসলে মাস্ক পরাটা জরুরি না। এটা পরলে যে পুরা নিরাপত্তা পাওয়া যাবে এমনটা না। কিন্তু আমি একটা কিছুতে হাত দিলাম সেটা থেকেও ভাইরাসটা ধরতে পারে।

কভিড নাইন্টিন প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার জরুরি নয় বলে জানিয়েছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবিএম আবদুল্লাহ। তবে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া জ্বর, শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে বলেছেন তিনি।

মাস্কের পাশাপাশি চাহিদা বেড়েছে স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশেরও।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন