কক্সবাজার সৈকতে শুরু হলো সবচেয়ে বড় নাচের উৎসব

ডেস্ক রিপোর্ট::
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের মারমেইড ইকো রিসোর্টে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক দ্বি-বার্ষিক নৃত্য উৎসব ‘ওশান ডান্স ফেস্টিভ্যাল-২০১৯’। ওয়ার্ল্ড ডান্স অ্যালায়েন্স, এশিয়া প্যাসিফিক (ডব্লিউডিএ, এপি)-এর বাংলাদেশ শাখা ‘নৃত্যযোগ’ প্রথমবারের মতো দেশে এই আয়োজন করেছে।সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডব্লিউডিএ, এপির সভাপতি উর্মিমালা সরকার বলেন, ‘আমাদের অনেক দিনের শ্রম ও সাধনার ফসল এই উৎসব। বাংলাদেশে ডব্লিউডিএ-এর বার্ষিক সভা করার পাশাপাশি এ উৎসবের আয়োজন করতে পারাটা আমাদের জন্য একাধারে আনন্দের এবং গর্বের। দূর দূরান্ত থেকে এসে আমাদের এই উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউডিএ সহসভাপতি লুবনা মারিয়াম, সাবেক সভাপতি তাইওয়ানের ইউনি ওয়াং এবং ডব্লিউডিএ, এপির বাংলাদেশ শাখা নৃত্যযোগের সভাপতি আনিসুল ইসলাম হিরু ও ওশান ডান্স ফেস্টিভ্যালের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুং বাজায় সিলেট থেকে আসা মনিপুরী দল, ঢোল বাজায় বাংলার ঢোল এবং নৃত্য পরিবেশন করে নাঈম খান ডান্স কোম্পানি।শুক্রবার সকালের অধিবেশনে নৃত্য বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহমিদা সুলতানা তানজী ও লতিফা ইয়াসমিন। সমসাময়িক নৃত্যের কর্মশালা পরিচালনা করেন জার্মান নৃত্যশিল্পী টমাস বুঙ্গার। এছাড়া তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ইউনি ওয়াং। ডব্লিউডিএ, এপি-এর বার্ষিক সাধারণ সভা এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এ উপলক্ষে প্রতিদিনই থাকবে কর্মশালা, সেমিনার ও প্রবন্ধ পাঠ। বিকেলে কক্সবাজারের লাবনী বিচ সড়কে কক্স কার্নিভাল মিলনায়তনে ছিল নৃত্য পরিবেশনা। দুই ভাগে এতে অংশ নেন আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচিত শিল্পী ও তাদের প্রযোজনা এবং জাতীয়ভাবে নির্বাচিত শিল্পীদের প্রযোজনাগুলো। প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পীরা মিলে দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক এ নৃত্য উৎসবের সূচনা করেন। দর্শকেরাও নিজেদের মুঠোফোনের বাতিগুলো জ্বালিয়ে একাত্ম হন। প্রথম পরিবেশনা নিয়ে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী অনন্যা চ্যাটার্জি।প্রধান অতিথি হিসেবে এদিন বিকালের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, ‘এ উৎসব দেশ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য আনন্দের। এটা যেন নিয়মিত হয় আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করবো।’ এ দিন আরও পরিবেশনা নিয়ে আসে তাইওয়ানের হুয়াং ইয়ু তিং, ভারতের মেঘনা ভরদ্বাজ, বাংলাদেশের সাধনা কালচারাল সেন্টার, কল্পতরু, জুয়েইরিয়াহ মৌলি, আনন্দিতা খান ও মৌমিতা জয়া। যৌথ পরিবেশনা নিয়ে আসে লিথুনিয়া ও ভারতের ক্রিস্টিনা ডলিনিনা এবং কানাডীয় শিল্পী সাশার জারিফের কোরিওল্যাবের হংকং, ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পীরা। জাতীয়ভাবে নির্বাচিত শিল্পীদের মধ্েয নাচ করেন ভাবনা, নন্দন কলাকেন্দ্র, তৃণা মজুমদার, প্রদীপ চন্দ্র নাহা, ফিফা চাকমা ও দীপা খন্দকার। চার দিনের এ উৎসবে ১৫টি দেশ থেকে যোগ দিয়েছেন ৮১ জন বিদেশি কোরিওগ্রাফার, শিল্পী, প-িত। দেশের প্রায় সব বিভাগ থেকে এসেছেন নৃত্যশিল্পীরা। ২৫ নভেম্বর এই উৎসবের সমাপনী ঘটবে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এমনটাই জানায় আয়োজক প্রতিষ্ঠান নৃত্যযোগ।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন