উমরা চালু নিয়ে ভাবছে সৌদি আরব

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কঠোর নিরাপত্তা, বিধিনিষেধ ও সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে হজ পালিত হয়েছে। শুধুমাত্র সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশি ও দেশটির নাগরিকরা হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।

আড়াইশ হাজি বাদে সবাই হজ পালন শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে ফিরে গেছেন। থেকে যাওয়া হাজিরা মদিনা শরিফ জিয়ারত শেষে বাড়ি ফিরবেন। শর্ত অনুযায়ী বাড়ি ফিরে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে সবাইকে। কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার হাজিদের এক ধরনের ইলেক্ট্রিক ব্রেসলেট হাতে পরিয়ে দিয়েছে। এটা দিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে।

হজ পালনকালে কোনো হাজি অসুস্থ হননি। সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পাদনের জন্য হারামাইন প্রেসিডেন্ট শায়খ সুদাইসসহ, হজ ও উমরা বিষয়ক মন্ত্রী ডা. মুহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বেনতেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. তাওফিক আল রাবিয়াহসহ অন্যরা হজযাত্রীসহ হজ সেবায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দিয়েছেন।

এদিকে দেশটির হজ ও উমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ডা. হুসেইন আল শরিফ সোমবার (৩ আগস্ট) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেভাবে হজ আয়োজন করা হয়েছে, তার পুরো প্রক্রিয়া থেকে শিক্ষা নিয়ে উমরা শুরুর প্রস্তুতি নেবে মন্ত্রণালয়।

সৌদি গেজেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শেষ হওয়া সফল হজ আয়োজনের মূল্যয়ন ও পর্যালোচনা শেষে করোনা পরিস্থিতিতে উচ্চ মানের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে যেভাবে হজ আয়োজন করেছে উমরার জন্য তাও ভেবে দেখা হবে।

তবে পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ কিছু বলেননি তিনি।

করোনা সংক্রমণ রোধে ফেব্রুয়ারির শেষে উমরাহ পালনের জন্য সৌদি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং ৪ মার্চ থেকে সৌদির নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য উমরা পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সেই থেকে মসজিদে হারামে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

তবে সফলভাবে হজ সম্পন্ন হওয়ার পর করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে উমরা পালনের ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সেটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে সৌদি আরব।

সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো হাজি করোনা পজিটিভ হননি এবং নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করেছে, হজের সময় অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ মাশায়েরে মোকাদ্দাসা বা হজপালনের স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারেনি।

সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর দ্য স্ট্যাটিসটিক্স (জিএস্ট্যাট)-এর পরিসংখ্যান মতে, ২০১৯ সালে উমরা পালন করেছেন ১ কোটি ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে বহির্বিশ্ব থেকে এসেছেন ৭৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৩ জন। এই সংখ্যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৪.৬৩ শতাংশ বেশি।

সৌদি সরকারের ভিশন-২০৩০ এর অন্যতম লক্ষ্য হলো, বছরের ১ কোটি উমরাযাত্রী ও হজযাত্রীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করা। এ লক্ষে ২০১৯ সালের হজের পর চার মাসে দেশটি ২২ লাখ উমরা ভিসা ইস্যু করে। এর পর থেকে দেখা দেয় মহামারি করোনা। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে উমরা বন্ধ রয়েছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন