উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়ের

বার্তা পরিবেশক::
দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান বরাবরে উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন সিরাজীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কাজী জসিম উদ্দিন ও মনজুর আলম। কাজী জসিম উদ্দিন বলেন, দুর্নীতির পরিণতি কখনও সুখকর হয় না। লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন সিরাজী গত ১৬/০৭/১৯৯২ ইংরেজিতে উখিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি বিগত ০৬/০১/২০০৫ ইং তারিখে অত্র বিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করতঃ স্বারক নং-BIAM/Lab/School/Teacher/17/18/03(Part-2),Dated-26/12/2004মূলে কক্সবাজার বিয়াম ল্যাবঃ স্কুলে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিগত ০৬/০১/২০০৫ ইং হতে একটানা ১২/০৯/২০০৫ ইং তারিখ পর্যন্ত (প্রায় ১০ মাস) যথারীতি চাকুরি করেছেন এবং উক্ত চাকুরিকালিন সময়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্নসাতের দায়ে অভিযুক্ত হলে বিয়াম কতৃপক্ষ তাকে তার পদ থেকে স্বারক নং-বিয়াম/ল্যাবঃস্কুল/০১/০৭/৪১৮ তারিখ-১১/০৯/২০০৫ ইং অনুবলে বরখাস্ত করেন যা গত ১৩/০৯/২০০৫ ইং তারিখ হতে কার্যকর হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় তিনি তৎকালিন উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিকে মোটা অংকের ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে পুনরায় গত ০৩/১০/২০০৫ ইং তারিখে উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। উল্লেখ্য যে, সরকারি চাকুরি বিধি অনুযায়ী একটানা ছয়মাস চাকুরিতে অনুপস্থিত থাকলে তার MPO এবং অতীতের চাকুরি অভিঞ্জতা বাতিল হয়ে যায়. সেখানে তিনি পদত্যাগ করে প্রায় ১০ মাস অন্যত্র চাকুরি করেছেন। আরও দুঃখের বিষয় যে, তিনি তার অতীতের বেআইনি কর্মকান্ডের তথ্য গোপন করে একটানা ১২ বৎসরের সহকারি শিক্ষকের অভিঞ্জতা প্রদর্শন করে বিগত ২০১০ সালে অত্র বিদ্যালয়ে পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তার সীমাহীন দুর্নীতি ও বেআইনি কর্মকান্ডের বর্ণনা নিম্নে সংক্ষেপে প্রদান করা হল-(১)চাকুরিবিধি অনুযায়ি তার বর্তমান প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি। (২) অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ২০১৬ সালে চাকুরি আত্নীয়করণের সময় তার প্রাপ্ত ৭ নং বেতন কোডের পরিবর্তে ৬ নং বেতন কোর্ড বেআইনি ভাবে তৎকালিন উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তার মাধ্যমে কার্যকর করেছেন এবং তা অদ্যবদি ভোগ করে আসছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। (৩) তিনি প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ের সরকারি টাকা আত্নসাৎ ও হরিলুট করে আসছেন। প্রমাণস্বরুপ, বিদ্যালয়ের বিল নং ২০৫,২০৬, ও ২০৭ তারিখ ০১/০৪/২০১৯ ইংরেজি, সর্বমোট ২,৫০,১০০/=(দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার একশত টাকা মাত্র) বিদ্যালয়ের জন্য কোন সরঞ্জামাদি ও উপকরণ ক্রয় না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্নসাৎ করেছেন। (৪) তার অনুগত গুটিকয়েক শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ভাউচার বানিয়ে বিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতিনিয়ত আত্নসাৎ করে আসছেন। এভাবে সীমাহীন দুর্নীতি ও অর্থ আত্নসাৎ করে যখন তিনি কোন প্রকার বাধাগ্রস্থ হননি, তাই বর্তমানে তিনি দিনদিন আরও বেপরোয়া, স্বেচ্ছাচারী এবং এক নায়ক ব্যাক্তি হিসাবে শিক্ষক কর্মচারিদের উপর তার অত্যাচারের মাত্রা তীব্রতর করে আসছেন। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে ও করতে পারছেন না।এমতাবস্থায় প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন সিরাজীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই পূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ অত্র বিদ্যালয়টিকে দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টিতে বলিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করেছেন।এব্যাপারে জানতে চাইলে,উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন,দুদকে প্রেরিত একটি অনুলিপি আমার কাছে এসেছে,যদি দুদক আমাদের কাছে সহযোগীতা চাই, তখন আমরা দেখব।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন