প্রকাশিত: ০৫/০১/২০১৮ ৮:৫০ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৮:২৮ এএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফরম পাঠিয়েছে মিয়ানমার। বাংলাদেশ ওই ফরমের একটিও মিয়ানমারকে ফেরত পাঠায়নি। রেডিও ফ্রি এশিয়া মিয়ানমার অংশে এমন সংবাদই প্রকাশ করেছে।

মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মায়াট আইর বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২২ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করব। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনার জন্য এবং তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রতিনিধিরা তৈরি। আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে ফরম পাঠিয়েছি, যা রোহিঙ্গারা পূরণ করবে এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেবে। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ একটি ফরমও আমরা বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাইনি।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এবং এর পরিকল্পনায় কোনো সমস্যা নেই। যারা ফিরে আসতে চাইবে তাদের অবশ্যই মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ দিতে হবে। যদি তাদের কোনো কাগজপত্র না থাকে তবে তাদের ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমে ছবি, নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা তুলে ধরতে হবে। এসব তথ্য দিয়ে আমাদের কাছে তাদের থাকা তথ্য যাচাই করব। আমরা তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। তবে যদি আমাদের সব চাহিদা পূরণ করতে পারে তবেই আমরা তাদের ফিরিয়ে নেব। বাংলাদেশ আমাদের যখন থেকে ফরম দেবে তখন থেকেই প্রত্যাবাসন শুরু করব।

মিয়ানমার জানিয়েছে, ৯ অক্টোবর ২০১৬ সালের পর থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে গিয়েছে তাদের অবশ্যই মিয়ানমারের বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে। সেই সঙ্গে ৯ অক্টোবরের পর যে তারা মিয়ানমার ত্যাগ করেছে তার প্রমাণও দিতে হবে।

জানা গেছে, চলতি মাসের ১৫ তারিখে ঢাকা-নেপিডোর মধ্যে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে গত বছর নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ফিজিক্যাল এগ্রিমেন্ট করবে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে, সে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের যাতে দীর্ঘ সময় থাকতে না হয় তা নিশ্চিতের জন্য ফিজিক্যাল এগ্রিমেন্টে উল্লেখ করা থাকবে। সেই সঙ্গে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, প্রত্যাবাসন সময়কাল, যানবাহন এবং যাতায়ত ব্যবস্থা, আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া, যোগাযোগসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ থাকবে। বাংলাদেশের ক্যাম্প থেকে তারাই মিয়ানমারের ক্যাম্পে যাবেন যারা স্বইচ্ছায় যেতে ইচ্ছুক। এ নিয়ে ইতোমধ্যে খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সই করা টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সই হওয়া চুক্তি ‘এগ্রিমেন্ট অন রিটার্ন অব ডিসপ্লেস পারসন ফর্ম রাখাইন স্টেট’ শীর্ষক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। সেই সঙ্গে তাদের পুনর্বাসন ও পুনঃএকত্রিত প্রক্রিয়ারও প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতি চার মাসে সরকারের কাছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিস্তারিত হাল নাগাদ তথ্য তুলে ধরবে। মূল চুক্তির তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রত্যাবাসন শুরু করবে।

পাঠকের মতামত

মালয়েশিয়ার ইউএনএইচসিআরের সম্পৃক্ততা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

চলমান সংঘাতের মধ্যেই মালয়েশিয়া দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ...
Single Page Footer