প্রকাশিত: ১১/০৯/২০১৭ ৭:০৯ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১:৪৪ পিএম
Single Page Top

সহিংসতার মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশু জসিম। এখন সে কক্সবাজারের উখিয়ার একটি শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। ১৩ দিনে ধরে উঁচু পাহাড় ও নদী ডিঙিয়ে কীভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে, সেই বর্ণনাই কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদককে জানিয়েছে জসিম। বিশ্বের কাছে নিজের কথা জানিয়েছে ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চাওয়া জসিম।

আল-জাজিরাকে রোহিঙ্গা জসিম বলে, ‘আমার নাম জসিম, বয়স ১২ বছর। এ সমস্যা শুরু হওয়ার আগে আমি স্কুলে পড়তাম। আমার প্রিয় বিষয় ছিল ইংরেজি। কারণ, আমি মনে করি, যদি ইংরেজিতে কথা বলতে পারি, তবে বিশ্বজুড়ে নানান মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব। আমি তাদের কাছে আমার মতামত প্রকাশ করতে পারব। আমি আশা করছি, আমি শিগগিরই আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারব। কারণ, আমি ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চাই।’

জসিম বলে, ‘আমাদের গ্রামে একদিন সেনাবাহিনী এসেছিল। আমরা তখন পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে ছিলাম। ওই দিন আমি অনেক সেনা দেখেছি। সংখ্যায় তা হয়তো ১০০ বা ২০০-এর মতো হবে। তারা আমাদের অনেককে গুলি করেছিল এবং আমাদের বাড়িগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি সেদিন খুবই ভয় পেয়েছিলাম। আমরা একটি জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম। পরে বাংলাদেশের উদ্দেশে হাঁটা শুরু করি। হাঁটতে হাঁটতে ১৩ দিন লেগে যায়। অনেক সময় আমরা জঙ্গলে থামতাম এবং সেখানেই আশ্রয় নিতাম।’

১২ বছরের জসিম বলে, ‘বাংলাদেশের যাওয়ার যাত্রাপথটি ছিল বেশ কঠিন। যাত্রাপথে আমাদের বড় বড় পাহাড় এবং কিছু ছোট নদী অতিক্রম করতে হয়েছে। আমরা যখন হাঁটছিলাম, তখন সব সময় ভয় করত যে এই বুঝি সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের ঘিরে ফেলবে। বাংলাদেশে ঢোকার আগে আমরা সব সময় সতর্ক ছিলাম। কারণ, সেনাবাহিনী ভূমিতে ছোট্ট বোমা পুঁতে রেখেছে; আমরা যদি এটির ওপর দিয়ে হেঁটে যাই, তাহলে বিস্ফোরিত হবে।’

গ্রামের ভিটেমাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন জসিম বলে, ‘আমাদের নিজেদের গ্রাম নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। কারণ, এখন আর গ্রাম নেই। আমরা সেখান থেকে সঙ্গে কোনো কিছুই আনতে পারিনি, সব হারিয়ে গেছে। আমি মায়ের সঙ্গে এসেছি; তবে বাবা এখনো রাখাইনে আছেন। বাবা আমাদের নিজের জীবন বাঁচাতে বলেছেন। পরে তিনি আমাদের কাছে চলে আসবেন। কিন্তু আমরা জানি না তিনি এখন কোথায় আছেন। আমরা তাঁর কোনো খবর পাইনি।’

জসিম বলে, ‘বাবাকে নিয়ে আমি চিন্তিত; যদি সেনাবাহিনী তাঁকে খুঁজে পায় বা ছোট্ট বোমায় উড়ে যায়। আমি আনন্দিত যে আমরা নিরাপদে আছি। কিন্তু এখানে থাকা কঠিন। কারণ, এখানে বসবাসের জন্য কোনো বাড়িঘর নেই। ভেজা স্যাঁতসেঁতে মাটিতে আমাদের ঘুমাতে হবে।’

বিশ্বের কাছে নিজের বার্তাও দিয়েছে জসিম। তার বার্তাটি হচ্ছে, ‘আমরা মিয়ানমারের নাগরিক। যদি তারা আমাদের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা দেয়, আমরা অনেক খুশি হব। আমরা এটাই চাই।’

পাঠকের মতামত

Single Page Bottom

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে মনোনয়ন দিতে চান ...

যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হিজবুল্লাহসহ নিজেদের অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে ...

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন ...

আজানের ধ্বনি আমার খুব ভালো লেগেছে: আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

তুরস্ক সফরে দেশটির মুসলিম জনগণের সহনশীলতা, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ...
Single Page Footer