প্রকাশিত: ১৬/০৫/২০১৮ ৭:৪৯ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:৫৫ এএম

নিউজ ডেস্ক::

ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই পা হারিয়েছিলেন, হারাননি মনোবল। তাই নাকবার (বিপর্যয়) ৭০তম বার্ষিকীর  বিক্ষোভে হাজার হাজার ফিলিস্তিনের সঙ্গে হুইল চেয়ারে বসেই অংশ নিয়েছিলেন। কাঁটাতারের ওই প্রান্তে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলতিও ছুড়েছিলেন। লড়াই করেছেন প্রাণপণ। সেই লড়াইয়ে সাহস না হারলেও হেরেছে শরীর। ইসরায়েলি হামলায় না ফেরার দেশে দিয়েছেন পাড়ি।

স্থানীয় সময় ১৪ মে, সোমবার দুপুরে বিক্ষোভে নিহত হন ফাদি আবু সালাহ নামের ওই যুবক।

বিশ্ব জনমত উপেক্ষা করে গত বছরের ডিসেম্বরে একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের কথাও বলেন। সেই অনুযায়ী ১৪ মে, সোমবার জেরুজালেমে দূতাবাস উদ্বোধন করে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ করলে তাতে নির্বিচার গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

গুলিতে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন নিহত ও কমপক্ষে তিন হাজার জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত ওই ৫৮ জনের একজন ছিলেন ফাদি আবু সালাহ।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে হুইল চেয়ার থেকে পড়ে গেলেও গুলতি নিক্ষেপ বন্ধ করেননি ফাদি। ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে হুইল চেয়ার থেকে পড়ে গেলেও গুলতি নিক্ষেপ বন্ধ করেননি ফাদি। ছবি: সংগৃহীত

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বৃীকৃতির প্রতিবাদে বিক্ষোভে গাজা উপত্যকায় ইব্রাহিম আবু সুরিয়া (২৯) নামের আরেক পঙ্গু ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের আরাবাহ গ্রামে ফাদি আবু সালাহর জন্ম। সালাহ কিশোর বয়স থেকেই ইসরায়েলবিরোধী সংগ্রামে যুক্ত হন। তার ঠাঁই হয় ইসরায়েলের কারাগারে। পরে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রচেষ্টায় ফাদিসহ ৮৯ জন ফিলিস্তিনির মুক্তি হয়।

নাকবা দিবসের বিক্ষোভে অংশ নিতে কয়েক মাস আগেই গাজা উপত্যকায় স্বপরিবারে তাঁবু স্থাপন করেছিলেন ফাদি। ছবি: সংগৃহীত

নাকবা দিবসের বিক্ষোভে অংশ নিতে কয়েক মাস আগেই গাজা উপত্যকায় স্বপরিবারে তাঁবু নিয়ে অবস্থান নেন ফাদি। ছবি: সংগৃহীত

২০০৮ সালে গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই পা হারান ফাদি। পরে চলতি বছরের চলমান বিক্ষোভে অংশ নিতে স্ত্রী ও চার শিশু সন্তানসহ গাজায় এসে তাঁবু গাড়েন তিনি।

নিহত ফাদির লাশ ঘিরে স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত

নিহত ফাদির লাশ ঘিরে স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনাদের গুলির জবাবে গুলতির মাধ্যমে ফাদির পাথর নিক্ষেপের ছবি বিশ্ব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

২৯ বছর বয়সী ফাদি আবু সালাহ ফিলিস্তিনি তরুণদের উদ্দেশে সবসময় বলতেন, ‘প্রতি মুহূর্তে আমাদের প্রতিরোধ জারি রাখতে হবে।’

পাঠকের মতামত

মালয়েশিয়ার ইউএনএইচসিআরের সম্পৃক্ততা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

চলমান সংঘাতের মধ্যেই মালয়েশিয়া দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ...
Single Page Footer