প্রকাশিত: ৩১/০৮/২০২০ ১০:৪৮ পিএম

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে আরও সাতদিন সময় পেয়েছে। গতকাল রোববার তদন্ত কমিটি সময় বৃদ্ধির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। আজ সোমবার ছিল তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন।

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি চতুর্থ দফা সময় বৃদ্ধি। গত ৪ আগস্ট তদন্ত কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজ সন্ধ্যায় বলেন, ‘আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছে। আশা করি সাত তারিখের আগেই আমরা রিপোর্ট জমা দিতে পারব।’

তিনি জানান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্তে কমিটি এ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৬৭ জনের জবানবন্দি নিতে নেওয়া হয়েছে। টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ যেহেতু এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট, তার জবানবন্দির অপেক্ষায় ছিল কমিটি। প্রদীপ রিমান্ডে থাকায় তার জবানবন্দি নিতে পারেনি কমিটি। এ কারণেই তদন্ত কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর বা পরেরদিন ওসি প্রদীপের জবানবন্দি নিতে নেওয়া। যেহেতু আগামীকাল মঙ্গলবার প্রদীপের রিমান্ড শেষ হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘আমরা একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ রিপোর্ট দিতে পারব। তদন্ত কমিটির অপরাপর সদস্যরাও তদন্ত কার্যক্রমে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা তদন্ত কার্যক্রম অনেকটা গুছিয়ে আনতে পেরেছি।’

গতকাল কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এই তদন্ত কমিটি করেছিলেন।

এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে আছেন লে. কর্নেল সাজ্জাদ, যাকে মনোনীত করেছেন রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার।

পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শকের মনোনীত অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

এ ছাড়া কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি এই তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন, যাকে শুরুতে এই কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছিল।

এ কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত দেওয়ার কথা রয়েছে।

৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

পাঠকের মতামত

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, ইনানী থেকে বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা

কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ...

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের একজন সাভারের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন ...