প্রকাশিত: ১১/০২/২০১৯ ৭:৫০ এএম

ঢাকা : সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পূর্তি হলো আজ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ছয় বছরেও মামলার কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি তারা। আদালত বার বার প্রতিবেদন দাখিল করতে বললেও ৫৪ বারের মতো সময় নিয়েছে র‌্যাব।

মামলার তদন্তভার হাতে পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় এসে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব আসামিদের অচিরেই শনাক্ত করার আভাস দিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বহু অর্থ ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্তও আশার কথা শুনিয়েছেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা।

এই মামলার তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, ‘র‌্যাব তদন্ত করছে না। আমরা হতাশ। তারা তদন্ত কার্যক্রম আটকে রেখেছে। শত শত জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেও এই মামলায় কোনো অগ্রগতি নেই। এক বছর আগে ফেব্রুয়ারিতে র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের বাসায় এসেছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেনি।’

মামলার বাদী আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড ক্লুলেস ছিল না। ঘটনাস্থল থেকে অনেক ক্লু উদ্ধার করেছে তদন্ত কর্মকর্তারা। ৩টি সংস্থা এর তদন্তে কাজ করেছে, কিন্তু কেউই প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করতে পারছে না। সরকার আরও বেশি আন্তরিক হলে হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতো।’

মামলা পরিচালনার সময় কোনো ধরনের হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না? জানতে চাইলে রোমান বলেন, ‘প্রথম দিকে ফোনে কিছু হুমকি পেয়েছিলাম। এখন আর এ রকম হয় না। পাশাপাশি কিছু হলুদ সাংবাদিকতার শিকার হয়েছিলাম আমরা।’

মামলার তদন্তের বিষয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান ২০১৭ সালে বলেছিলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। মামলার সর্বশেষ তথ্য তিনি আদালদকে জানাবেন।’ প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ৫৪ বারের মতো পিছিয়েছে। কেন তদন্ত শেষ হচ্ছে না জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনেই সময় লাগছে।’ ঘটনার কোনো ক্লু মিলেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা পরবর্তী যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে সেই তারিখে আদালতকে সবকিছু জানাবো।’

‘বিচার কি পাবো? জানিনা, তবুও শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বিচার চেয়ে যাবো। কোন অপরাধে হত্যাকারীরা আমার ছেলে ও ছেলের বৌকে হত্যা করেছে? –সেটা আমি জানতে চাই।’ বিচার পাওয়া না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে কথাগুলো বলেছিলেন সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির।

শুধু সালেহা মনিরই নন, এই দেশের প্রত্যেক সংবাদকর্মীর মনে একই সংশয়। তা হলো, আদৌ কি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে?কোন দিন কি সাগর-রুনি’র খুনি ধরা পড়বে? দ্রততম সময়ের মধ্যে খুনির বিচার সম্পন্ন হবে? নাকি এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে প্রতি বছর এই দিনে শুধুই তাদের স্বরণ করবে জাতি!

পাঠকের মতামত

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...

নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। ...