প্রকাশিত: ০১/০১/২০২০ ৬:৪৯ পিএম

নিজের মাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করলেন অধ্যাপিকা মেয়ে। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার সল্টলেকের অভিজাত জলবায়ু বিহার আবাসন এলাকায়।

পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বছর ৬৭-র মা।

পুলিশ সূত্রে খবর, বেলা ২টা নাগাদ বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ফোন করে খবর দেন আবাসনের বাসিন্দারা। ওই আবাসনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই ফ্ল্যাটটি অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার এস কে প্রতিহারের। তার স্ত্রী দীপালি এবং মেয়ে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। সেখানে মেয়ে ঋতুপর্ণা একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপিকা।

মেয়ের কাছেই থাকতেন মা। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে মা-মেয়ে কলকাতায় আসেন এবং তার পরই কোনও পারিবারিক গণ্ডগোলের জেরে বাড়ি থেকে অন্যত্র কোথাও চলে যান এস কে প্রতিহার। মঙ্গলবার মা-মেয়ের বেঙ্গালুরু ফেরার কথা ছিল।

আবাসনের নিরাপত্তা রক্ষীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, সকাল থেকেই মা-মেয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি, বচসার আওয়াজ পাচ্ছিলেন তারা। এর খানিক পরেই হঠাৎ করে মায়ের আর্ত চিৎকার শোনেন নিরাপত্তা রক্ষীরা এবং প্রতিবেশীরা। তারা ওই ফ্ল্যাটের দরজা ধাক্কা দেন। কিন্তু ভিতর থেকে তালা বন্ধ ছিল দরজা।

এর পরেই গ্রিলের দরজার ওপারে থাকা কাঠের দরজা ভেজানো থাকায় কোনও ভাবে খুলে যায়। সেই খোলা দরজা দিয়ে নিরাপত্তা রক্ষীরা এবং প্রতিবেশীরা দেখেন ঋতুপর্ণা হাতুড়ি দিয়ে পর পর আঘাত করছেন মা দীপালির মাথায়। ভেসে যাচ্ছে রক্তে। তার মধ্যেই রক্তাক্ত মাকে টেনে পাশের ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন বছর ৩৮-এর ঋতুপর্ণা। ওই দৃশ্য দেখেই পুলিশে খবর দেন বাসিন্দারা। নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন প্রতিবেশীরা। ততক্ষণে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়।

প্রতিবেশীদের দাবি, শুধু মাকে আঘাত করাই নয়, ঋতুপর্ণা ঘরের মধ্যে কয়েকটি বাক্সে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সময় গ্যাসও খোলা ছিল। গোটা ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যেতে পারতো প্রতিবেশীরা সময় মতো দরজা ভেঙে না ঢুকলে।

পুলিশ জানিয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন ওই মহিলা। হাসপাতালেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় ঋতুপর্ণাকে। কেন তিনি মা-কে প্রবল আক্রোশে মারছিলেন তা এখনও স্পষ্ট নয় তদন্তকারীদের কাছে।

পাঠকের মতামত

মালয়েশিয়ার ইউএনএইচসিআরের সম্পৃক্ততা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

চলমান সংঘাতের মধ্যেই মালয়েশিয়া দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ...
Single Page Footer