

কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী বলেছেন, “ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে আমরা নতুন ফ্যাসিবাদ পেয়েছি। বিএনপি ফ্যাসিবাদ হয়ে জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে উখিয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত গণমিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, “এনসিপির পদযাত্রা যখন সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিল, তখন আমরা আওয়ামী লীগের সেই বালুর ট্রাক বিএনপির কাছে দেখেছি। তার মানে বিএনপি ফ্যাসিবাদ হয়ে জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলন দমন করার জন্য ছাত্রদের রাজাকারের ট্যাগ দিয়ে চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু তারা তাদের গদি রক্ষা করতে পারেনি।
বুধবার বাদ আসর অনুষ্ঠিত কর্মসূচির গণমিছিলটি ঝাউতলাস্থ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে কোর্টবাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহ মজিদিয়া হোটেলের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উখিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল ফজল। সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা সোলতান আহমদ।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী এবং জেলা খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি আবু আব্দুল্লাহ আল হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী আরও বলেন, “জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। দেশের স্বার্থে সকলকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা আবুল ফজল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি সাংবাদিক রিদুয়ানুল হক জিসান, ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুমিনুল হক ছোটনসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

পাঠকের মতামত