প্রকাশিত: ০৫/০৯/২০২০ ৯:২৯ এএম

ডেস্ক রিপোর্ট::
বাংলাদেশেই আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট, সংক্ষেপে আইসিসি) বসানোর জন্য আবেদন করেছেন রোহিঙ্গাদের পক্ষের আইনজীবীরা। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে ওই আদালতে গত মাসে তাঁরা ওই আবেদন করেন। তাঁদের যুক্তি, দ্য হেগের বাইরে অন্যত্র, বিশেষ করে ‘জেনোসাইডের’ শিকার রোহিঙ্গাদের কাছাকাছি কোনো স্থানে বিচারের জন্য আদালত বসানো উচিত। এ ক্ষেত্রে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশই সবচেয়ে উপযুক্ত। এতে রোহিঙ্গাদের সাক্ষ্য প্রদান সহজ হবে।

তবে রোহিঙ্গা আইনজীবীদের ওই আবেদনের বিরোধিতা করেছেন আইসিসির প্রসিকিউটর ফাটু বেনসুডা। আইসিসির প্রাক-বিচারিক আদালত-৩-কে তিনি রোহিঙ্গাদের পক্ষের আইনজীবীদের ওই আবেদন খারিজ করে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। আইসিসির প্রাক-বিচারিক আদালত-৩-এর বিচারকরা সম্প্রতি এক আদেশে আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের পক্ষের আইনজীবীদের ওই আবেদনের পক্ষে মতামত জানাতে আদালতের রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এরপর আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
আইসিসির প্রসিকিউটরের কার্যালয় রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত জেনোসাইড ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ তদন্ত করছে। এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের পক্ষের আইনজীবীরা রোহিঙ্গা জেনোসাইডের সম্ভাব্য বিচার ইউরোপের বাইরে অন্য কোনো স্থানে অনুষ্ঠানের আবেদন করলেন। আইসিসি প্রকাশিত নথি ঘেঁটে দেখা যায়, রোহিঙ্গাদের পক্ষের আইনজীবীদের তিনটি দল দ্য হেগের বাইরে বাংলাদেশে আইসিসির আদালত বসানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে আইসিসিতে আবেদনকারী অস্ট্রেলীয় আইনজীবী কেট গিবসনের আশা, আইসিসিতে মামলার শুনানির অন্তত কিছু অংশ এশিয়ার বাইরে বাংলাদেশে বা থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গারা যাতে আইসিসির বিচার বুঝতে পারে সে জন্যই এ উদ্যোগ। এ ক্ষেত্রে আইসিসি রোহিঙ্গাদের কাছাকাছি কোথাও আদালত বসাতে পারে।

সিডনি ল স্কুলের পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো রোজমেরি গ্রের মতে, অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তি ও সাক্ষীরা অর্থসংকট, পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণের ঘাটতি, ইন্টারনেট সংযোগে ধীরগতিসহ বেশ কিছু সমস্যায় রয়েছে। তাদের কাছে বিচার পৌঁছাতে হলে আইসিসিকেই তাদের কাছে যেতে হবে। গ্রিফিত ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের শিক্ষক এমা পালমার এ ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আইসিসির দূরত্বের বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, অপরাধ তদন্ত করতে গিয়ে প্রসিকিউটরদের মধ্যস্থতাকারী, নাগরিক সমাজ গোষ্ঠীগুলোর ওপর অনেক নির্ভর করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০২ সালে হেগে আইসিসির কার্যক্রম শুরুর পর এর আওতায় অন্যত্র বিচার চালানোর কোনো নজির নেই। কেনিয়া ও কঙ্গোতে গুরুতর অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিরাও হেগের বাইরে অন্য কোনো স্থানে আদালত বসানোর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও কারিগরি কারণে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। সুত্র: কালেরকন্ঠ

পাঠকের মতামত

ছাত্রনেতৃত্ব থেকে জনসেবার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জিশান

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মানুষের কাছে পরিচিত মুখ মাওলানা মুহাম্মদ রিদুয়ানুল হক জিসান। ছাত্রজীবন ...

মালয়েশিয়ার ইউএনএইচসিআরের সম্পৃক্ততা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

চলমান সংঘাতের মধ্যেই মালয়েশিয়া দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ...
Single Page Footer