প্রকাশিত: ১৫/১১/২০১৭ ৮:০৮ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১১:০৬ এএম

উখিয়া নিউজ ডটকম::

নুরে জান্নাত নামে ৯ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশু তার ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মিয়ানমারের বুচিডং সিকদারপাড়া থেকে। মাকে ধর্ষণের পর বাবাকে গুলি করে মারার দৃশ্য চোখে দেখেছে। সে ভয়াবহ অবস্থাতেই দুর্বল মন ও শরীর নিয়ে খালার সাথে গতকাল এসে উখিয়া বালুখালি ক্যাম্পে পৌঁছায়। খালার সহায়তায় অনেক কষ্টে সে এসেছে। কোমল মনের ছোট্ট এই শিশু চোখের সামনে বার্মিজ আর্মিদের গুলিতে বাবা নুরুল ইসলামের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছে।

 

গতকাল সকাল ১০টায় বালুখালি এসে এ প্রতিবেদককে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশু নুরে জান্নাত বলে, ‘আঁর মারে জুলুম গরি বাবারে গুলি মারি বর্মা মিলিটারিয়ে মারি ফেলাইয়ে। আই গুরা ভাইওয়া লই কেন গইজ্জম?’ (মাকে ধর্ষণ ও বাবাকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। ছোট ভাইকে নিয়ে আমি এখন কী করব?)। শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের দলে খালার সাথে পালিয়ে আসে সে। খালা আমিনা খাতুন জানান, শুধু তার বাবা-মাই নয়, তার মতো আরো অনেকেই হারিয়েছে বাবা-মা, ছেলেসন্তান, স্বামী স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের। বার্মিজ আর্মি ছাড়াও বিজিপি, নাসাকা বাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা এ হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে চলছে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। প্রাণভয়ে টেকনাফের লম্বা বিল, উখিয়ার আনজুমানপাড়াসহ অনেকেই সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মিয়ানমার থেকে যারা ফিরছেন, তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ, ক্ষুধার্ত ও জীর্ণশীর্ণ চেহারায় বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন।

 

এ দিকে গতকাল বিচ্ছিন্নভাবে শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বালুখালি, থাইংখালি ও কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। অত্যাচারের মুখে তারা সহায় সম্পদ ফেলে এপারে চলে এসেছেন। এরই মধ্যে সে দেশের মংডু, বুচিডং, রাচিডং, টাউনশিপ (জেলা) এলাকার শত শত গ্রাম রোহিঙ্গাশূন্য হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার আড়াই মাসের মতো পেরিয়ে গেলেও এখনো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

 

মিয়ানমার থেকে আসা দিলদার বেগম, রোকেয়া বেগম, ফাতেমা, হাজেরা, রহমত উল্লাহ, হামিদ হোসেন, এনায়েত উল্লাহ, মিনারা খাতুন, আব্দুল খালেকসহ একাধিক রোহিঙ্গার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানিয়েছেন, পাঁচ দিন আগে আরাকান রাজ্যের বুচিডং সিকদারপাড়া গ্রাম থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন তারা। পাঁচ দিন পর বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছেন।

অসহায় রোহিঙ্গারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়পর্বত পেরিয়ে নদী ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে থাকে। ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনার সূত্র ধরে রোহিঙ্গার ঢল বাড়তে থাকে। আড়াই মাসের ব্যবধানে সাত লাখেরও অধিক রোহিঙ্গার প্রবেশ ঘটেছে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে। রোহিঙ্গাদের অতিরিক্ত চাপের কারণে বেড়ে গেছে নিত্যপণ্যের দাম। ফলে স্থানীয়দের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। পাশাপাশি উখিয়ায় অতিরিক্ত বাসাভাড়া, অফিস ও গাড়িভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের নির্মম নির্যাতনের ফলে তারা প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

পাঠকের মতামত

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...

ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচারে কলেজছাত্রীর মৃত্যু

ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করার পর আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক ...

দুর্গম পাহাড়ি পথে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গারা

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি ...