প্রকাশিত: ০১/০৩/২০১৮ ৯:৩৪ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:৫৮ এএম

ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়ের (রুয়েট) একজন প্রাক্তন ছাত্র। দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন কোম্পানীতে চাকুরীর পরে এখন তিনি কর্মরত আছেন জার্মানীর এক বিখ্যাত কোম্পানীর ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে। পেশাগত জীবনে দারুন সফল এই প্রকৌশলী সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছিলেন “লাইফ ইজ রুয়েট” নামক রুয়েটের একটি একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে। একজন সাধারন তরুন থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠার অসাধারন গল্প উঠে আসে তারই বয়ানে। সাক্ষাৎকারের গল্প রূপের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

বায়ার্ন মিউনিখের উত্তেজনাকর ম্যাচে দর্শকদের মুহুর্মুহু চিৎকারের মাঝে, বা বার্লিনের কোনো ব্যস্ত কফিশপে বসে আমি মাঝে মাঝেই ফিরে যাই অতীতে। রুয়েটের ব্যস্ত খেলার মাঠ, সিভিলের শ্রেনীকক্ষ বা রুয়েট ক্যাম্পাসের স্বপ্ন আড্ডায় মাখা চায়ের কাপে…

ছোটবেলা থেকেই আমি খুবই অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিলাম। আশেপাশের মানুষগুলো কথা বলতো, আমি শুনতাম। মনে হতো তাদের তুলনায় আমি কত কম জানি! কিন্তু একসময় বুঝেছি, বেশি কথা বলা মানেই বেশি জানা নয়, বেশি কিছু পারা নয়। নিজের অজান্তেই হয়ত আমি চারপাশ থেকে শিখছিলাম বড় কোনো উপলক্ষের জন্য।

রুয়েটজীবনের শুরু থেকে ভেবেছি, এতদিন যা কিছু শিখেছি এবার তা বাজিয়ে দেখার পালা। ক্লাসের শুরুতেই ক্লাস প্রতিনিধি হতে আগ্রহী কারা জিজ্ঞেস করেছিলেন একজন শিক্ষক। অপরিচিত কেউই আগে দাঁড়াতে ইচ্ছুক ছিল না। দাঁড়িয়েছিলাম আমি। আজ সেদিনের ঘটনাকে মূল্যায়ন করলে দেখি, এই ছোট ছোট কাজে দায়িত্ব নিতে পারার ব্যাপারগুলোই মানুষকে বিজেতা করে তোলে।

একবার বাসে ঢাকা যাবার পথে এক মধ্যবয়স্ক লোক সহযাত্রী হলেন। আমি অপরিচিত মানুষদের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসতাম। স্বভাববশত তার সাথে পরিচিত হলাম। আলাপচারিতায় তিনি বেশ মুগ্ধ হলেন। পরে জানলাম তিনি এক কোম্পানির বড় পদে কর্মরত। তারপর থেকে তিনি আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন, রাজশাহী আসলে দেখা করতেন। এবং পাশ করার পরেই তিনি তার কোম্পানীতে চাকুরি অফার করেন।

আমার মধ্যে একটা ব্যাপার ছিল, যা মন থেকে করতে চাইতাম, চাইতাম সেটাতে যেন আমিই বেস্ট হই। তার কোম্পানী থেকে আমি চাকুরী নিই জনৈক সাবেক মন্ত্রীর এক কন্সট্রাকশন কোম্পানীতে। সেখানে আমার ব্যাচমেট, সিনিয়র, দেশের প্রায় সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন।

এবং বুঝতেই পারছেন, সবার আগে পদন্নতি পাই আমি। কোম্পানীর গুরুত্বপূর্ন সভা, ব্যবসায়িক প্রস্তাবনায় ডাক পড়ত আমার। একবার এক বিদেশী ক্লায়েন্টের সাথে সভায় প্রতিনিধি পাঠানো হবে। অফিস থেকে বের হয়ে দেখি আমার জন্যে এক বিলাসবহুল গাড়ি অপেক্ষা করছে।

চাকরী যখন ভালো রকম অবস্থানে, তখন আমার মনে হলো আমার স্বপ্ন আরো বড়। আমি চলে আসি জার্মানীতে। এখানে এমএসসি শেষ করে এখন কর্মরত আছি এক বহুজাতিক কোম্পানীর ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে।

এখনো যখন আয়নার সামনে দাঁড়াই, দেখতে পাই সেই অন্তর্মুখী তরুনকে। পৃথিবী যখন তার উপর ভরসা করতে পারে নি, তখন সে নিজের উপর ভরসা রেখেছিল। শেষ হয়ে যেতে দেয় নি তার স্বপ্নকে…

বর্তমানদের জন্য কিছু বলতে বললে বলব, তোমরা প্রত্যেকে স্পেশাল। নিজের স্পেশালিটিকে খুঁজে বের করো। কাজ করো সেটার উপর। তোমার প্রচেষ্টাই একদিন তোমাকে স্বপ্নের মুখোমুখি করে দিবে। সকল স্বপ্নচারীর জন্য শুভকামনা রইলো।

সাক্ষাৎকার গ্রহন ও অনুলিখনঃ
মোঃ বখতিয়ার হোসেন পল্লব
প্রকাশক
লাইফ ইজ রুয়েট ম্যাগাজিন

পাঠকের মতামত

“​মুদ্রাস্ফীতির জাঁতাকল ও নবম পে স্কেল: সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস এবং অর্থনৈতিক চরম বাস্তবতা”

​সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অধিকতর যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ...

গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে:মেয়াদ হবে চার বছর

​২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সময়। একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক ...

“বিগত প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, বাস্তবায়নই হোক উখিয়া-টেকনাফের আগামী”

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত  উপজেলা—উখিয়া ও টেকনাফ। এই জনপদ আজ মাদক, ...
Single Page Footer