
জসিম মাহমুদ, টেকনাফ::
বাংলাদেশের মানচিত্রের সর্ব দক্ষিণের এই পৌর শহরের নয়াপাড়া, শাহ পরীর দ্বীপ বাজার ও উপজেলার বিভিন্ন অলিগলিতে ভাসমান এই মানুষগুলোকে দেখা যায়।
তাদের বসবাস রাস্তা-ফুটপাত বা দোকানের আশপাশে; নেই কোনো আশ্রয়। কক্সবাজারের টেকনাফজুড়ে ছড়িয়ে- ছিটিয়ে আছে এমন একশর বেশি মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ। স্বজনছাড়া এই মানুষগুলোকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে কিছু মানুষ।
ভবঘুরে এই মানুষগুলোর খাওয়া-পরা, যত্নআত্তি এবং চিকিৎসার ভার নিয়েছে ‘মানসিক রোগীদের তহবিল-মারোত’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাদের কাজকর্মে ‘অবহেলিত’ এই মানুষদের সম্পর্কে পাল্টে যাচ্ছে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও।
ছয় বছর আগে, ২০১৬ সালে তাদেরকে সহায়তা দেওয়ার জন্য মারোতের প্রতিষ্ঠা। আর মাঠে কাজকর্ম শুরু হয় পরের বছর, ২০১৭-তে।
সংগঠনের সভাপতি আবু সুফিয়ান জানান, টেকনাফ পৌরসভায় ৬০ জন, নয়াপাড়া -শাহ পরীর দ্বীপে আরও ৫০ জন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে প্রতিদিনের খাবারের দায়িত্ব নিয়েছে মারোত।
সংগঠন প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, “টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন অলিগলিতে একশরও বেশি মানসিক রোগী, ভবঘুরে বসবাস করছে। মারোত নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানসিক রোগীদের দেখাশোনা করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তাদের সহযোগিতা করে থাকি।”
মারোতের উদ্যোগে এসব মানসিক রোগীদের খাওয়া-দাওয়া এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে অনেককে পরিবারের কাছেও ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়ে বলে মনে করেন ইউএনও।
শাহপরীর দ্বীপের ভবঘুরে রুমানার সঙ্গে কথা হয়। রুমানার বাড়ি বাগেরহাটের মোংলায়। অনেকদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। কিন্তু তিনি পরিবারে কাছে ফিরতে চান বলে জানান।
সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক সন্তোষ কুমার শীল বলেন, “এ সংগঠনটি অনেক পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এই পর্যন্ত পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনা চল্লিশেক মানসিক রোগীকে তাদের নিকটাত্মীয় বা স্বজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবার বিচ্ছিন্ন আছেন দুই বছর থেকে দুই দশক ধরে।“
তিনি আরও বলেন, টেকনাফে আগে যারা মানসিক রোগীদের দেখলেই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিতেন, তাদের অনেকেরই আচার আচরণে পরিবর্তন এসেছে মারোতের সদস্যদের অকৃত্রিম সেবা দেখে।
উপজেলার রাজনীতিবিদ, চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সব পেশার মানুষ সহযোগিতা নিয়ে সংগঠনটির পাশে দাঁড়িয়েছে। কেউ চা-নাশতা থেকে শুরু করে ভাত খাওয়ান, কেউ বা তাদের পরনের কাপড় জোটান, কেউ আবার তাদের চুল-দাঁড়ি কেটে দেওয়ার কাজও করে থাকেন।
দেশে কোভিড মহামারী রুখতে চলা লকডাউনের মধ্যেও ওইসব মানসিক রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা করে এ সংগঠনটি।

পাঠকের মতামত