মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোস্তফা, বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮/০৪/২০২৬ ৪:৪৮ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ছৈয়দ নুর—একজন রিকশাচালক। প্রায় ২০ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে তিনি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তার উপার্জনের টাকাতেই চলত বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তানের সংসার।

সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার কোটবাজার এলাকায় এক শ্রমিককে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি তার রিকশাটি সড়কের মাঝখানে রেখে দেন। ঠিক তখনই প্রাইভেটকারের নিচে চাপা পড়ে রিকশাটি তছনছ হয়ে যায়।

রিকশা হারিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন ছৈয়দ নুর। উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় তিনি নিজেও না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারকেও ঠিকমতো খাবার দিতে পারছেন না।

তিনি উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম ডিগলিয়া এলাকার বাসিন্দা। দুই ছেলে নিয়ে চার সদস্যের পরিবার তার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে এখন তিনি দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন জায়গায় সাহায্যের জন্য ঘুরছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি।

সৈয়দ নুর বলেন, গরিব মানুষ, ঋণের টাকায় এই রিকশা ছিল আমার একমাত্র সম্বল। ২০ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে পরিবার চালাইছি। হঠাৎ করে সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমার হাতে কোনো কাজ নাই, ঘরে খাবারও নাই। বউ-বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজের বৃত্তবানরা যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়াইতেন, তাহলে আবার নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করতে পারতাম।

উখিয়া শাহপরী হাইওয়ে থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। থানায় মামলাও হয়েছে প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে। এখনো গাড়ির মালিক আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলায় রিকশা ভাঙচুরের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাতে রিকশার ক্ষতিপূরণ পেয়ে যান চালক।

পাঠকের মতামত

মৃত্যুর পরও লাখো হৃদয়ে আলীম উদ্দিন ফকিরপীরে কামেলের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, দ্বীনের পথে তাঁর অবদানের স্মরণ

মৃত্যুর পরও লাখো মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন শাহ সুফি আলহাজ্ব আলীম উদ্দিন ফকির, এমন প্রত্যয় ...

গর্ভপাতের চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে বিচার চেয়েছিলেন কক্সবাজারের সুমাইয়া

বিয়ের প্রতিশ্রুতি, গর্ভে অনাগত সন্তান আর প্রিয় মানুষের স্বীকৃতি চেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করেছিলেন ...
Single Page Footer