

কক্সবাজারের উখিয়ার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কোটবাজারে যানজট নিয়ন্ত্রণে স্থাপন করা সড়ক ডিভাইডার কেটে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ডিভাইডারের একটি অংশে ড্রিল মেশিন দিয়ে কাটার চিহ্ন দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। পরে তিনি উখিয়া থানা, হাইওয়ে থানা, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, “কে বা কারা ডিভাইডারটি কেটে ফেলার চেষ্টা করছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের তালিকা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক-দুই দিন নয়, কয়েকদিন ধরেই ডিভাইডারটি ভাঙা কিংবা কেটে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনস্বার্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো কেন, কারা এবং কী উদ্দেশ্যে কাটার চেষ্টা করেছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কোটবাজারে যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে সড়কের শৃঙ্খলাহীন ব্যবহার ও যত্রতত্র যানবাহন চলাচল। যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিভাইডার স্থাপন করা হয়েছে। অথচ সেটিই যদি কেউ ইচ্ছেমতো কেটে ফেলার চেষ্টা করে, তাহলে পুরো সড়ক ব্যবস্থাপনা আবারও বিশৃঙ্খলার মুখে পড়তে পারে।
তাদের ভাষ্য, কোনো স্থাপনা নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই নিয়ম। কিন্তু অনুমতি ছাড়া সরকারি বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো কাটার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ এতে জড়িত কি না—তা দ্রুত তদন্ত করে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উখিয়া সদর স্টেশন, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার ও কুতুপালং স্টেশনে প্রতিনিয়ত যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। গুরুত্বপূর্ণ এসব বাজার ও স্টেশন এলাকায় যানজটের কারণে সময় নষ্টের পাশাপাশি পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ছে।
এ অবস্থায় যানজট নিরসনে নেওয়া পদক্ষেপ ও সড়ক ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ডিভাইডার কাটার চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাঠকের মতামত