ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৫/০৩/২০২৬ ১২:৪০ পিএম

পবিত্র রমজান মাস শেষে আসছে খুশির ঈদুল ফিতর। এই ঈদের ছুটিতে পর্যটন রাজধানীখ্যাত কক্সবাজারে পর্যটকদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এবারের ঈদে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প জমজমাট হবে; পর্যটকে মুখরিত থাকবে স্পটগুলো। ঈদের ছুটি ঘিরে ইতোমধ্যেই শহর ও আশপাশের আবাসিক হোটেলগুলো অগ্রিম বুকিং করে রেখেছেন পর্যটকরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের দীর্ঘ ছুটি কাটাতে পর্যটকরা এবার কক্সবাজারকেই বেছে নেবেন; পাঁচ থেকে ১০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।

তারকা মানের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ঈদের দিন থেকে টানা সাতদিন কোনো রুম খালি নেই। মাঝারি মানের হোটেলগুলোতে কিছু রুম খালি থাকলেও ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার আশায় ‘রুম ফাঁকা নেই’ বলে দাবি করছেন। তাদের দাবি, ঈদের প্রথম তিন দিন কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউস এবং রিসোর্ট প্রায় পুরোপুরি অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

আসন্ন ঈদে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের ভালো সেবা দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব সেক্টরেই কাজ চলছে। কোথাও চলছে রঙের কাজ, কোথাও মেরামতের কাজ। কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। ব্যবসায়ীদের মতে, কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যেন তাদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হতে পারেনÑ সেভাবেই প্রস্তুতি চলছে।

কক্সবাজারের মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল হিলভিউ-এর ম্যানেজিং পার্টনার রহমত উল্লাহ জানান, তাদের হোটেলে আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ মার্চ অগ্রিম বুকিং রয়েছে। এখন মেরামত ও সাজসজ্জার কাজ চলছে।

তারকা মানের আবাসিক হোটেল কক্স টুডে-এর এজিএম আবু তালেব বলেন, আমাদের হোটেলে দুই শতাধিক রুম রয়েছে। রমজানের এই সময়ে হোটেলকে ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। ঈদের আগেই এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ঈদের প্রথম তিনদিনের জন্য প্রায় ৫০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে আছে। তবে অধিকাংশ পর্যটকই বুকিং কনফার্ম করেননি। ঈদের আগে আগে হয়তো শতভাগ বুকিং ও কনফার্ম হয়ে যেতে পারে।

আরেকটি তারকা মানের হোটেল সায়মান রিসোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিনান্সিয়াল কন্ট্রোলার আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এখন আমাদের হোটেল রেনুভেশনের কাজ চলছে। ঈদের আগেই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের হোটেলে ঈদের পর টানা পাঁচ-ছয়দিন সম্পূর্ণ অগ্রিম বুকিং রয়েছে। এবার ঈদের ছুটিতে অসংখ্য পর্যটক আসবেন কক্সবাজারে এমন আশা করছেন তিনি।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টরের আবাসিকে প্রতিদিন এক লাখ ২০ হাজার মানুষ থাকার সক্ষমতা রয়েছে। আশা করছি, এবারের টানা ১০ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন লাখেরও বেশি মানুষ কক্সবাজার আসবেন।

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেলের অধিকাংশ হোটেলেই অগ্রিম বুকিং হয়ে আছে। তিনি বলেন, এবার লম্বা ছুটি হওয়ায় প্রচুর পর্যটক কক্সবাজার আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১০ দিনের ছুটিতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ কক্সবাজার আসতে পারে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণ ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল মালিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একদফা বৈঠক করা হয়েছে। ঈদের আগে আরো একটি বৈঠক করা হবে। তিনি বলেন, পর্যটকদের কাছ থেকে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয় সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। হোটেল মালিকদের বলে দেওয়া হয়েছে যেন পর্যটকদের কাছ থেকে ন্যায্য ভাড়া নেওয়া হয়।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় শহরে ও পর্যটন স্পটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হবে। পর্যটকরা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকটা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

পাঠকের মতামত

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সমাবেশের জেরে উখিয়ায় ১১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের ...
Single Page Footer