উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭/০৫/২০২৬ ৬:৫৪ পিএম , আপডেট: ২৭/০৫/২০২৬ ৬:৫৫ পিএম

ইসলায়েল অধিকৃত জেরুজালেমের আল-আকসা মজিদ প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা। চার দিনব্যাপী ঈদের প্রথম দিনে বুধবার (২৭ মে) ঈদের জামাতে অংশ নেন প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনি মুসলিম। আল-আকসা প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, অধিকৃত জেরুজালেমের পুরাতন শহরে ও আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদের নামাজ আদায় করেন ১ লাখ ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ঈদের আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফিলিস্তিনি শহরগুলোতে অভিযান চালিয়ে দোকান মালিকদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে। এ ছাড়া আবাসিক এলাকায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতনের কিছু অংশ কেটে দেওয়ার পরও, ঈদুল আজহার ছুটির কেনাকাটায় মানুষ শহরের বাজার ও কেন্দ্রগুলোতে অনেক ভিড় করছিল। ঠিক এই ব্যস্ত সময়েই অভিযানগুলো চালানো হয়

বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, কঠোর ইসরায়েলি বিধিনিষেধের মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে সীমিত সংখ্যক ফিলিস্তিনি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মসজিদের ফটকগুলো বন্ধ করে দেয় এবং প্রবেশপথে মুসল্লিদের তল্লাশি করে। এর ফলে মসজিদে ঢুকতে দেরি হওয়ায় অনেকে অন্য মসজিদে যেতে বাধ্য হন।

দুদিন আগে ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদটির কাছে স্টান গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে। এতে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে ঈদের জামাতে মাত্র ৩০০ জন মুসল্লি উপস্থিত হতে পেরেছিলেন।

হেবরনের গভর্নর খালেদ জানান, ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব। কিন্তু দখলদার বাহিনী ইব্রাহিমি মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। মুসল্লিদের ওপর স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।

ঈদুল আজহা মূলত মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর নিজের সন্তানকে কোরবানি করার প্রস্তুতির স্মরণে পালিত হয়। খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছেও তিনি আব্রাহাম নামে পরিচিত। এই দিনে মুসলমানরা পশু কোরবানি করেন এবং সেই মাংস সমাজের দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করে থাকেন।

আরবি ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসব ফিলিস্তিনে এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিনিয়ত আক্রামণ চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৮৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ২ হাজার ৬৪৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। আর আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামোকে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

পাঠকের মতামত

 

যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হিজবুল্লাহসহ নিজেদের অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে ...

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন ...

আজানের ধ্বনি আমার খুব ভালো লেগেছে: আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

তুরস্ক সফরে দেশটির মুসলিম জনগণের সহনশীলতা, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ...

চীনের চালে কোণঠাসা মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা, তাহলে কি আবার জান্তারই জয় হচ্ছে

মিয়ানমারের গহিন জঙ্গলে বিপ্লবের লাল পতাকাকে স্যালুট দিচ্ছেন পিছু হটতে থাকা বিদ্রোহীরা। তাঁরা গণতন্ত্রের লড়াই ...