
নিউজ ডেস্ক::
একদিকে উচ্ছেদ অন্যদিকে আবার দখল। এ খেলা দীর্ঘদিনের। কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়ক ঘেষে গড়ে উঠা মারমেইড কর্তৃপক্ষ এখন সৈকত গিলে খেতে বসেছে। উচ্ছেদ বন্ধে ও প্রশাসনের নজর এড়াতে রাজনীতির মাঠে নেমেছেন রিসোর্টটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ এমন গুঞ্জন সর্বত্র।
জানা যায়, নিজের রিসোর্টের অবৈধ দখলকৃত জমিতে উচ্ছেদ ঠেকাতে নব্য আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন সোহাগ। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করান আলোচিত দখলবাজদের শীর্ষে থাকা আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী একজন দখলবাজ হওয়ায় তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জেলায় নানান আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এরপর নৌকার প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলকে সমর্থন দেয়ার নাটক করে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান সোহাগ। যা সর্বত্র হাস্যকর বিষয়ে রূপ নেয়।
বরাবরের মত গতকাল শুক্রবার (১১ জানুয়ারী) দুপুরেও মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে সরকারী খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছিল সোহাগের মারমেইড কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। এসময় বিভিন্ন মালামালও জব্দ করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট সেলিম শেখ এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট সেলিম শেখ এ প্রতিবেদককে জানান, জাদুঘর, পেচার দ্বীপ, মেরিন ড্রাইভ এর পশ্চিম পাশে প্রায় ২০ একর সরকারি খাস জমিতে মারমেইড অবৈধভাবে দখলের পায়তারা করছিল।
প্রশাসনের নজরে আসামাত্র তা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসময় কাঠ, টিনসহ বিভিন্ন নির্মান সামগ্রী জব্দ করা হয়। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত রাখবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের আরেকটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে, উচ্ছেধ অভিযানে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এই মামলায়ও প্রধান আসামী হবেন আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ। এরআগেও একাধিক দখল মামলার আসামী সোহাগ। কিন্তু বার বার এভাবে দখল করে গেলেও ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন সোহাগ। যার ফলে উচ্ছেদ করা হলেও বার বার দখল করে বসে সোহাগ।
সুত্রে জানা যায়, দখল করে সাগর তীরে কোন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ নিষেধ থাকলেও বার বার সৈকতের বালিয়াড়ি এবং বঙ্গবন্ধুর রোপনকৃত ঝাউগাছ কর্তন পুর্বক স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছেন এই দখলবাজ।
কক্সবাজার পিপল্স ফোরামের মূখপাত্র এইচএমন নজরুল ইসলাম বলেন, সোহাগ দখল করতে করতে সৈকত গিলে খেতে বসেছে। তার বিরুদ্ধে এখনি ব্যবস্থা নেয়া না হলে পুরো মেরিনড্রাইভ সড়ক ঘেষে যেসব জমি আছে সব জমিই সে দখল করে নেবে। তাই তাকে কোন রাজনৈতিক দল যাতে তাদের ছত্রছায়ায় না রাখে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব জানান, মারমেইডের দখল থেকে ২০ একর সরকারী জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলার বিবাদী মারমেইড কর্তৃপক্ষই হবে বলে জানান তিনি।

পাঠকের মতামত