উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮/০৭/২০২৬ ৫:৩২ পিএম
KUALA LUMPUR 22 JUNE 2017. Pesuruhjaya Tinggi Pertubuhan Bangsa-bangsa Bersatu bagi orang-orang pelarian (UNHCR) di Pejabat UNHCR, Jalan Bukit Petaling. NSTP/SALHANI IBRAHIM

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম আশ্রয়প্রার্থীকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সোমবার রাতে ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ের বাইরে থাকা এসব রোহিঙ্গাকে চারটি পুলিশ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে থাকা রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, জানান, আটক ব্যক্তিদের আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কুয়ালালামপুর পুলিশ সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে।

আটক হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। তারা জানিয়েছে, রোববার মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য পেনাংয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের চাপে নিজেদের ঘর ছাড়তে বাধ্য হন তারা। এরপর রাতভর বাসে করে রাজধানী কুয়ালালামপুরে এসে ইউএনএইচসিআরের কাছে পুনর্বাসন সহায়তা চেয়েছিলেন।

‘স্বেচ্ছায় স্থানান্তর’ বলছে পুলিশ

পেনাং পুলিশ জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা রাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ, এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সহায়তায় ‘স্বেচ্ছায়’ কুয়ালালামপুরে চলে গেছে।

সেবেরাং পেরাই উতারা জেলার পুলিশ প্রধান আনুয়ার আবদুল রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “এলাকায় রোহিঙ্গা জনসংখ্যা বৃদ্ধির পর অর্থনৈতিক ও ভূমি ব্যবহারের প্রতিযোগিতা থেকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার কারণে এই স্থানান্তর করা হয়েছে।”

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অনলাইন ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভুল তথ্য প্রচার বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাড়ছে বিদ্বেষ

গত মে মাস থেকে মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশটিতে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হয়রানি ও নজরদারি বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সোমবার বলেন, ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যাদের বৈধ অনুমতি নেই, তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, “কেউই শহরের কোনো অংশ দখল করে নেওয়ার অধিকার রাখে না।”

মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) উপ-এশিয়া পরিচালক ব্রায়নি লাউ বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা নিয়মিত গ্রেপ্তার ও অভিযানের আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। অনলাইনে ঘৃণামূলক প্রচারণা বাড়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

তিনি বলেন, “বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত মালয়েশিয়া সরকারের। তাদের আরও আতঙ্কিত করার মতো আটক অভিযান চালানো উচিত নয়।”

মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধিত

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম নিবন্ধিত রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এর বাইরে আরও অনেক রোহিঙ্গা অনিবন্ধিত অবস্থায় দেশটিতে বসবাস করছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সৈয়দ কাসিম জানান, সোমবার ভোরে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কোনো সরকারি সংস্থা তাদের সহায়তা করেনি।

তিনি বলেন, “কেউ আমাদের সমস্যায় সাহায্য করেনি, কেউ বুঝতেও চায় না।” তিনি জানান, গত ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের জন্য বদলে গেছে পরিস্থিতি

মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় এবং দেশটির আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবুও দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়া তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।

তবে করোনা মহামারির সময় থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। তখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভাইরাস ছড়ানো, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান এবং চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার অভিযোগ ওঠে।

পাঠকের মতামত

পারিবারিক মামলার শুনানি শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল উখিয়ার রুবিনা ও শাহীনাসহ ৩ জনের

সকালে কক্সবাজার আদালতে এসেছিলেন পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে। আদালতের কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার ...

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে মনোনয়ন দিতে চান ...

যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হিজবুল্লাহসহ নিজেদের অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে ...

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন ...
Single Page Footer