সুনীল বড়ুয়া :
দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় বর্তমানে কক্সবাজারের প্রধান সড়ককটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শহরের বাজারঘাটা থেকে লিংক রোড পর্যন্ত সড়কজুড়ে খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় পর্যটকসহ স্থানীয় জনসাধারণকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন অলিগলির উপ-সড়কগুলোর আরও বেহাল অবস্থা। যেকারণে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি সিএনজি অটো রিকসাসহ ছোট যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বেশি।
তবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রধান সড়কের বর্তমানে ড্রয়িং ডিজাইনের কাজ চলছে। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শেষ করে আগামী দুইমাসের মধ্যে কাজ শুরুর চেষ্টা চলছে।
এদিকে কক্সবাজারের মতো একটি পর্যটন শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন বেহাল দশার কারণে চলতি মৌসুমে পর্যটন শিল্পে বিরুপ প্রভাব পড়বে এমন মন্তব্য সচেতন মহলের।
কক্সবাজার পিপলস ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ফরহাদ ইকবাল বলেন, আমরা কক্সবাজারকে পর্যটন রাজধানী বলি,কিন্তু কক্সবাজারেরর বর্তমান চেহারা দেখলে মনে হয় এটা একটা যুদ্ধ বিধ্বস্থ শহর।
মাসের পর মাস ধরে শহরের প্রধান সড়ক এবং উপ-সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে হাজার হাজার পর্যটক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ভোগান্তির শিকার হলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পৌরসভার নজরে আসছেনা। যে কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এখানকার পর্যটন শিল্পে।
তিনি গত থার্টি ফাস্টনাইটে পর্যটক শূণ্যতার উদাহরণ টেনে বলেন, রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা এটিও অন্যতম একটি কারণ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের লালদিঘির পাড় এলাকা থেকে লিংকরোড পর্যন্ত রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এর মধ্যে বাজারঘাটা, বার্মিজস্কুল, কালুর দোকান, বাস টার্মিনালসহ বেশ কয়েকটিস্থানে বড় বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্ঠি হয়েছে। যেখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনাও । ফলে শহরের সর্বত্র সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্তও যানজট লেগে থাকে।
মঙ্গলবার বিকালে শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকায় ঢাকার সাভার থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো.আব্দুল্লাহ ফয়সাল জানান, সারা দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু দেশের প্রধান একটি পর্যটন শহরের রাস্তা-ঘাটের এত বেহাল অবস্থা দেখে আমরা সত্যিই হতাশ হয়েছি।
আমি মনে করি এই বার্মিজ মার্কেটও পর্যটনের একটি অংশ। কিন্তু আসতে যদি এতটা ভোগান্তি পোহাতে হয়,সেটা পর্যটকদের জন্য অনেক হতাশার বিষয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো অনেকে কক্সবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। যোগ করেন তিনি।
শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক শহিদুল্লাহ কায়সার বলেন,কক্সবাজার মূলত নামে পর্যটন শহর। এখানে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু এখানকার রাস্তাঘাটের বর্তমান অবস্থা দেখলে মনে হবে এই কক্সবাজার কোন অভিভাবক নেই। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন,কক্সবাজার শহরে ঢুকেই রাস্তঘাটের এই ধ্বংসস্তুপ দেখে দারুনভাবে হতাশ হচ্ছে পর্যটকেরা। শুধু প্রধান সড়ক নয়, শহরের অলিগলির সড়কগুলোর আরও বেহাল দশা।
আমি মনে করি জরুরী ভিত্তিতে এসব সড়কগুলো সংস্কার করা না হলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জানা গেছে, শহরের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন সড়ক বিভাগের অধীনের ছিলো। সম্প্রতি শহরের প্রধান সড়কটি কউক’র অধীনে চলে যাওয়ার সড়ক বিভাগ আর পৌরসভা এদিকে নজর দিচ্ছেনা। এর মধ্যে কউক কয়েকবার ছোট-খাটো সংস্কার কাজ চালালেও তাতে মানুষের দুর্ভোগ নিরসন হচ্ছেনা।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও যানজট নিরসনের এবং পরিকল্পিত নগরায়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের ‘হলিডের মোড়-বাজারঘাটা হয়ে লারপাড়া বাসস্ট্যান্ড’ পর্যন্ত প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। এবং ইতিমধ্যে গত বছরের ১৬ জুলাই এ প্রকল্পটি একনেক-এ অনুমোদন ও পায়। কিন্তু এখনো সেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি।
তবে এ ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, এই প্রকল্পটির জন্যই আমি দিনের পর দিন ঢাকা পড়ে আছি, কাজ শুরু করার জন্য তোড়জোর চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সরকারী প্রকল্প আমি চাইলেই তো যেন তেনভাবে শুরু করে দিতে পারিনা। কিছু প্রক্রিয়া আছে,প্রক্রিয়াগুলো শেষ না করে তো টেন্ডারে যাওয়া যাচ্ছেনা।
তিনি বলেন, বর্তমানে ড্রয়িং ডিজাইনের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। আমি চেষ্ঠা করছি আগামী দুইমাসের মধ্যে কাজ শুরু করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পে দুইপাশে সড়ক প্রশস্তকরণ,সৌন্দর্য্যবর্ধনসহ নানা কাজের পাশাপাশি ১৩টি কালভার্টও রয়েছে। আমি পরিকল্পনা করছি,দ্রুত কাজ শেষ করতে দুইদিক থেকে কাজ শুরু করা হবে।
‘মানুষ কষ্ঠ পাচ্ছে সেটা আমরা দেখছি,তবুও একটা পরিকল্পনা করেই তো কাজ শুরু করতে হবে। এটার জন্য আর কিছুদিন মানুষকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। যোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান শহরের অলিগলির বেহাল অবস্থার বিষয়ে বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি সড়কের টেন্ডার হয়েছে। আরও কিছু প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব শেষ হলে শহরের চেহারা পাল্টে যাবে।