
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিষাক্ত বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকির আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালা অমান্য করে মেরিন সিটি নামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এ বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অথচ বেসরকারি এই হাসপাতালটির পার্শ্বেই রয়েছে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
টেকনাফ উপজেলা পরিষদ গেটের পার্শ্বে পৌর এলাকার একটি ভবনে স্থাপিত হয়েছে মেরিন সিটি নামক বেসরকারি হাসপাতালটি। হাসপাতালের পেছনের খোলা জায়গায় স্তুপ রয়েছে ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জসহ নানা বর্জ্যের।
স্থানীয় লোকজন জানান, এ বছরের শুরুতে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানকার বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালটির পাশে নাফনদ তীরে রয়েছে একটি আবাসিক এলাকা। এছাড়া একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ রয়েছে বাড়িঘর ও দোকানপাট।
হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংশিষ্টদের সঙ্গে জড়িতরাও স্বীকার করেন যে, অস্ত্রোপচারের পর টিউমারসহ মানবদেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, রক্ত এবং অপারেশনে ব্যবহৃত নানা ধরনের বর্জ্য থাকে।
ওই সব বর্জ্যে থাকে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া। ওইসব ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া পানি, মাটি ও বাতাসকে মারাত্মক দূষিত করে। ফলে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে মানবদেহে।
তবে এ বিষয়ে মেরিন সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক নুরুজ্জামান দাবি করেন, তারা বর্জ্যগুলো নির্দিষ্ট একটা স্থানে ফেলে থাকেন। সেখান থেকে পৌরসভার সুইপাররা এসে বর্জ্য নিয়ে যায়।
এছাড়া হাসপাতালটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ৩টি প্ল্যান্ট রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরো জানান, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসরসহ ২১ জন ডাক্তার, ১৮ জন নার্স নিয়ে ৩০ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান জানান, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে অনিয়ম পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।