পরিবর্তন::
বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে মনে হচ্ছিল ইয়াবা কোনো দিন নির্মূল বা দমন করা সম্ভব হবে না।
বিশেষ করে ইয়াবা ট্রানজিট পয়েন্ট কক্সবাজার জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাচ্ছিল। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কালো টাকার প্রভাবে কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
তবে, বিগত ৮ মাসেই পাল্টে গেছে সব হিসেব নিকেশ। ইয়াবা ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বলা চলে মাটিতে নামিয়ে এনেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইয়াবা নির্মূলে বিগত ৮ মাসে জেলায় অন্তত ৮০ ইয়াবা কারবারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। ১০২ জন ইয়াবা ডন, গডফাদার ও ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণ করেছেন।
কক্সবাজার অঞ্চলে ইয়াবা নির্মূল অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন। শুধুমাত্র অভিযান বা আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি সীমান্তের প্রতিটি অঞ্চলে গিয়ে মাদকবিরোধী সচতনতামূলক সভা করে আসছেন। তার সঙ্গে এই অভিযানে অবদান রেখে চলেছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
কক্সবাজারে মানবাধিকারকর্মী এইচএম নজরুল বলেন, স্থানীয় থানা প্রশাসন ইয়াবা দমনে মাঠপর্যায়ে যে অবদান রেখে চলেছে, সেটি অব্যাহত থাকলে চলতি বছরেই কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার শূন্যের কোটায় চলে আসবে।
কক্সবাজার সাংকৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নজিবুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের মানুষ যে ইয়াবার কলঙ্ক থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, তা সম্ভব হচ্ছে প্রশাসনের সঠিক পদক্ষেপে। কারণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইয়াবা দমনে সৎ মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ইয়াবা নির্মূলের জন্য তাকে কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
মাসুদ হোসেন বলেন, ‘ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হাত অনেক গভীরে। বিগত আট মাসে ইয়াবাবিরোধী অভিযানে অনেক প্রতিবন্ধকতা এসেছে। কিন্তু, সরকার প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রধানের নির্দেশে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হয়েছে।’