প্রকাশিত: ০৪/১০/২০১৭ ১০:২৪ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১২:৪৩ পিএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণাকে ভিত্তি ধরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার। বাংলাদেশের সঙ্গে সরকারিভাবে আলোচনার পর মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) দেশটির স্টেট কাউন্সেলরের অফিস থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে ওই চুক্তির বিষয়ে বলা হয়েছে।

কিন্তু ১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণার আওতায় সব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার আদৌ ফিরিয়ে নেবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ও বিতর্ক রয়েছে।

এর আগে সোমবার (০২ অক্টোবর) ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ের বৈঠক হয়। সেখানে রোহিঙ্গা ফেরত নিতে দুদেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়।

১৯৯২’র যৌথ ঘোষণায় মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতিতে শুভঙ্করের ফাঁকি স্পষ্ট। ওই ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বৈধ কাগজপত্রসহ ফিরতে পারবে তাদের ছেড়ে আসা জন্মভূমি রাখাইনে।

কিন্তু গত ২৫ আগস্টের পর থেকে জাতিগত নিধনের মুখে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সেরকম কাগজপত্র নেই। যুদ্ধ বা সহিংসতার মতো পরিস্থিতিতে তারা প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসেছেন। তারা কি করে এই চুক্তির আওতায় ফিরবেন তাও অনিশ্চিত।

যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে বলা হয়েছে রাখাইনের যেকোনো রকম কাগজপত্র থাকলেই তা ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সেক্ষেত্রে কেনাকাটার রশিদ, সরকারি খাত ছাড়া কোথাও অর্থ জমা দেওয়ার কাগজ, যেকোনো ধরনের বিল বিবেচনায় আসবে। তবে এসব ডকুমেন্ট মিয়ানমার মানবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে ঢের। দেশটি বলছে, কেবল ‘যাচাইকৃত’ লোকজনই তারা ফেরত নিতে চায়।

শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গাদের তারা ‘মুসলিম’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে, রোহিঙ্গা জাতি হিসেবে নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানামরের মন্ত্রী দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সু চির বক্তব্য অনুযায়ী, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই ও প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত। ১৯৯২ সালের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ঘোষণা অনুসারে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

এই যৌথ ঘোষণা অনুসারে ১৯৯২ থেকে ২০০৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দুই লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৫ জনকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে জনবল বাড়ানো হলেও গতি পাচ্ছে না রোহিঙ্গা নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যই ডিজিটাল কার্ডে তাদের পরিচয় দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সব রোহিঙ্গাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে বলে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। যদিও বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মতে, ইতোপূর্বে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় চার লাখ; বেসরকারি হিসেবে আরও বেশি। তারাই ফিরে যেতে পারেননি বিগত বছরগুলোতে। এবার নতুন করে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ (পাঁচ লাখের বেশি, মোট নয় লাখের বেশি) কি করে ফিরবেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পাঠকের মতামত

রাখাইনের বাসিন্দাদের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা ত্যাগের নির্দেশ

রাখাইনের বাসিন্দাদের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা ত্যাগের নির্দেশ মংডু শহরের প্রবেশপথ। ছবি সংগৃহীত মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ...