
চট্টগ্রামে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় তিন জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ওসি প্রদীপ মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত কয়েদি।
সোমবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় প্রদীপকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, আসামি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইনকাম ট্যাক্সের তিন জন কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ৭ এপ্রিল।
প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। তারপরই এ মামলায় তিনজন সাক্ষী দিয়েছেন।
এর আগে ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালত দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠনের মাধ্যমে প্রদীপ এবং তার স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।
২০২১ সালের ২৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। প্রদীপ কারাগারে থাকলেও তার স্ত্রী চুমকি পলাতক।
এ দম্পতির বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। বাকি ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
নগরের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে বাড়ি, ৪৫ ভরি স্বর্ণ, একটি কার ও মাইক্রোবাস, কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবের মালিক প্রদীপের স্ত্রী চুমকি। প্রদীপের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে স্ত্রী চুমকি এসব সম্পদ অর্জন করেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। চুমকি নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী দাবি করলেও তার কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় একই বছরের ৬ আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন প্রদীপ। সিনহা হত্যা মামলায় প্রদীপকে ফাঁসির রায় দেন আদালত।