টেকনাফের হ্নীলা উলুচামরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চিহ্নিত আওয়ামী দুসরদের নিয়ে এসএমসি (স্কুল ম্যানেজিং কমিটি) গঠনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানাযায়, উলুচামরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসাইন আহমদ নিজের অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত রাখতে আওয়ামী দুসরদের নিয়ে এসএমসি তথা স্কুল ম্যানেজিং গঠনের অতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, অভিভাবকদের নিয়ে কোন ধরণের সভা না ডেকে প্রধান শিক্ষক দীর্ঘ বছরের অনিয়ম জিইয়ে রাখতে নিজের মতো করে পরিচিত ও পছন্দের লোকদের সিলেকশন মাধ্যমে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির গঠনের পায়তারা চালাচ্ছেন। স্কুলের অভিভাবক আব্দুস সালামসহ শত শত অভিভাবকদের অভিযোগ, মাষ্টার হোসাইন আহমদ দীর্ঘ ২যুগ ধরে উলুচামরী স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি শুরু থেকেই এই পর্যন্ত চিহ্নিত লোকজন ও আওয়ামী দুসদের নিয়ে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন। নিজের পছন্দের লোকদের ছাড়া তিনি কখনো স্কুলের কোন প্রকার কমিটি করেনননি। বর্তমানেও নিজের খামখেয়ালীপনা ও ইচ্ছামত স্কুল চালাতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল লোকদের নিয়ে কমিটি গঠনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করেছেন বলে জানাগেছে।
অভিভাবক সদস্য নুরুল আলম এমএ জানান, মাষ্টার হোসাইন আহমদ নিরবে নিভৃত্বে পছন্দের লোকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে সিলেকশন করে বরাবরের মতো চুপেচাপে কমিটি গঠনের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। এই অভিভাবক সদস্য আরো অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে নিজের পছন্দ মতো লোকদের সিলেকশন করলেও কাকে কাকে রেখেছেন বৈঠকের আগ তা সম্পুর্ন গোপন রাখেন। কাউকে তালিকা না দেখিয়ে নিজের পছন্দ মতো লোকদের নিয়ে গতকাল পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তৎপরতা চালালে আমি ভোটে অংশ নেয়নি। বিভিন্ন সময়ে সিলেক্টেড সদস্যদের তালিকা চাইলে নিয়ম নেই মর্মে তালিকা দেখাননি। অথচ আমি একজন সচেতন অভিভাবক (এমএ পাশ) হিসেবে সভাপতি পদে যোগ্য প্রার্থী।
অভিযুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার হোসাইন আহমদ জানান, যথাযথ নিয়ম মেনে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াধীন। আওয়ামী দুসরদের দিয়ে কেন কমিটি করব? অভিভাবক, স্থানীয় মেম্বার ও অন্যান্য ক্যাটাগরীর সদস্য পুরণ সাপেক্ষে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তবে অভিভাবকদের নিয়ে কোন সভা করেননি বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান,আওয়ামী দুসর বা নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কমিটি গঠনে করলে সংশ্লিষ্টরা শিক্ষা অফিস বরাবরে লিখিত আবেদন করতে পারেন। তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
বিষয়টি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরীকে অবগত করা হলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।