টেকনাফের হ্নীলায় আপন ভাই কর্তৃক এক প্রবাসীর বসতভিটা ও বাড়ীঘর দখলে নেওয়ার অভিযোগ জানাগেছে। প্রবাস ফেরত ভাইকে নিজের বাড়ীতে উঠতে দেয়নি আপন এক ভাই। বর্তমানে অসহায় হয়ে পড়েছেন সৌদি ফেরত প্রবাসী। উক্ত প্রবাসী চালাচ্ছেন অটো রিকসা। ২ মেয়েকে নিয়ে ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। নিজের বসতঘর ফিরে পেতে স্থানীয়ভাবে বিচার দ্বায়ের করেও কোন ধরণের সুরাহা পায়নি ফুরকান নামের এই প্রবাসী।
জানাগেছে, উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংখালী মৌলভীবাজার এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে ফুরকান আহমদ দীর্ঘ ৭বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারীতে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেন। ফিরে দেখেন নিজের টাকায় নির্মিত ঘর তালাবদ্ধ। ঘরে স্ত্রী ও মেয়েরা নেই। ওই সময় বাড়ীতে ঢুকতে চাইলে আপন ভাই আয়াজ উদ্দিন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। দেশে আসার আগেই ভাই আয়াজ উদ্দিনের নির্মম নির্যাতনে তার প্রিয়তমা স্ত্রী বাপের বাড়ীতে চলে গেছেন। স্বামীর ঘর ছেড়ে বাপের বাড়ীতে চলে যাওয়ার সময় মেয়েদের সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রবাস ফেরত ফুরকান এই প্রতিবেদককে জানান, বিদেশ যাওয়ার আগে পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত জমিতে স্ত্রী এবং মেয়েদের ঘর নির্মাণ করে দেন। বসতভিটায় তিনি বিদ্যুৎ ও পানিসহ সব ধরণের ব্যবস্থাপনা করেন। কিন্তু দু:খজনক মায়ের পেটের ভাই কোন অজুহাত ছাড়াই আমার বসতঘর জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন। স্ত্রী এবং মেয়েদের ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
প্রবাসী জানান, তার সংসারে ২টা মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে ফারিয়া নামের বড় মেয়েটি নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আগামীবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। ছোট মেয়েটি নয়াবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী। চাচার নির্যাতনে অতীষ্ট হয়ে মেয়েরা মায়ের সাথে তাদের নানার বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানাগেছে।
প্রবাসী ফুরকান আরো জানান, চলতি বছরের শুরুতে দেশে এসে ভাই আয়াজ কর্তৃক বাড়ীঘর দখলে নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ও নিকটাত্মীয় এড. মীর মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নিকট বিচার দায়ের করা হয়। সমাধানের উদ্দেশ্যে তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠকে বসেন। শেষ পর্যন্ত কোন ধরণের সুরাহা না হওয়ায় স্কুল পড়–য়া ২মেয়ে নিয়ে এখনো কঠিন সময় পার করছেন তিনি। এদিকে পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে প্রবাসী ফুরকান অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে অটো রিকসা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রবাসী বসতভিটা জবরদখলকারী সিএনজি চালক আয়াজ উদ্দিনের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় মেম্বার বেলাল উদ্দিন জানান, উপরোক্ত বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। কেবল বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই শুনলাম। কেউ অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসলে অবশ্যই আমি সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করবো।
এড. মীর মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, মো: আয়াজ ও ফুরকান পরস্পর ভাই। বসতভিটার সৃষ্ট বিরোধ সমাধানের কল্পে উভয় পক্ষকে নিয়ে আমরা বসেছিলাম। কিন্তু তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সমাধানে পৌঁছতে পারেনি। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী প্রবাসী ফুরকান এবং তার স্কুল পড়–য়া মেয়েদের মাথা গুজাবার স্বার্থে পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত জমিতে নিজের তৈরীকৃত বসতঘর ফিরিয়ে পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।##