
গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড। এদিকে এই মামলার রায়ে বেকসুর খালাস পেলেন মিজানুর রহমান। বুধবার দুপুরে গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ১৭ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ধ্যায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। রাতভর রেস্টুরেন্টে আসা মানুষকে জিম্মি করে রাখে জঙ্গিরা। চরম উদ্বেগে পার হয় সে রাত। ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন আরো দুই পুলিশ সদস্য। সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সেনা কমান্ডোদের অপারেশন থান্ডারবোল্টের মাধ্যমে জিম্মি ঘটনার অবসান হয়। অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাশ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ২১ জনকে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দেয় কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ।এর মধ্যে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয় ১৩ জন । ফলে নিহতদের বাদ দিয়ে আসামি করা হয় ৮ জনকে।
আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম, রাকিবুল হাসান রিগান, আসলাম হোসেন, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। আসামিদের সবাইএখন কারাগারে।
২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শুরু হয় বিচার। এর এক বছরের মাথায় গত ১৭ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের দিন ঠিক করে আদালত। এ মামলায় আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ রাষ্ট্রপক্ষ।
ছয় মাস ধরে পরিকল্পনা করে নব্য জেএমবির জঙ্গিরা ওই হামলা চালায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করাই উদ্দেশ্য ছিলো জঙ্গিদের।