কালের কন্ঠ::
সড়কে গাড়ির চাকা ঘুরলেই দিতে হবে টাকা। করোনার অতিমারির এই সময়েও বদলায়নি চাঁদাবাজির সংজ্ঞা। চাঁদার মচ্ছব চলছে নিয়ম মেনে, ঘাটে-ঘাটে। শুধু পাল্টেছে কৌশল। আগে সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি আটকে তোলা হতো চাঁদা। এখন গাড়ি ছাড়ার সময়ই নির্ধারিত স্থানে অনেকটা গোপনে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে টাকা। তবে মাঝপথে থাকে পুলিশের বাগড়া, হঠাৎ থেমে যায় গাড়ির চাকা। পুলিশের পকেটে টাকা পড়লেই গাড়ি ছোটে নির্দিষ্ট গন্তব্যে।
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে দেশে বন্ধ দূরপাল্লার বাস। ট্রেন-লঞ্চ চলাচলও মানা। শুধু জেলার সীমানা পর্যন্ত আছে বাস চলার অনুমতি। দূরপাল্লায় সীমিত পরিসরে চলছে ছোট যানবাহনও। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা পেয়েছে চাঁদাবাজির নতুন মওকা।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিকরা মিলে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পরস্পরের যোগসাজশে কৌশলে সড়ক-মহাসড়কে চলছে টাকার খেলা। ঈদ ঘিরে এই চাঁদাবাজি পেয়েছিল নতুন মাত্রা। কোথাও কোথাও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও পরিবহন সংগঠনগুলো নানা উদ্যোগ নিলেও বন্ধ হয়নি সড়কের এই অপতৎপরতা।
পথে পথে চাঁদা গুনতে হচ্ছে গাড়িচালকদের। আর এই চাঁদার টাকার ষোলো আনাই তুলে নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের পকেট থেকে। করোনার বিধি-নিষেধের কারণে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ইচ্ছামতো। এই ভাড়ার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে চাঁদাবাজদের হাতে। টাকা দিলে দূরপাল্লার বাসও চলতে পারছে বীরদর্পে।
এদিকে পরিবহন নেতারা বলছেন, মহাসড়কে কোনো চাঁদা তোলা হয় না। শুধু শ্রমিক ফেডারেশনের নির্ধারিত শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ চাঁদা নেওয়া হয়। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, সড়ক-মহাসড়কে পরিবহন চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তারা। কোনোভাবেই চাঁদাবাজদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
উত্তরের পথে পথে ওড়ে চাঁদার টাকা
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পারে সয়দাবাদ-হাটিকুমরুল মহাসড়কে কড্ডা ট্রাফিক ফাঁড়ির পাশে সক্রিয় পরিবহন নেতা ও তাঁদের লোকজন। হাইওয়ে, ট্রাফিক ও সেতু থানা পুলিশের সামনে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী শত শত বাসে দিন-রাত পালাক্রমে চলছে চাঁদাবাজি।
এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় প্রান্ত থেকে সিরাজগঞ্জ কড্ডার মোড় হয়ে উত্তরাঞ্চলের প্রতি জেলাতেই কল্যাণ চাঁদার নামে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের যৌথ চাঁদাবাজি চলছে। সেতুর পশ্চিম পাড়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অদূরে সিরাজগঞ্জ রোড, ভূঁইয়াগাঁতী, চান্দাইকোনা, ষোলমাইল, সলঙ্গা, মহিষলুটি, বোয়ালিয়া, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, বাঘাবাড়ীসহ নানা পয়েন্টে কল্যাণ চাঁদা ছাড়াও চেইন মাস্টার, কলারবয় ও চুঙ্গি শ্রমিকদের সাধারণ চাঁদা তোলাও চালু রয়েছে। হাটিকুমরুল মহাসড়কের দক্ষিণ প্রান্তে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলোতে রফিকুল ইসলাম ও উত্তর প্রান্তে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী বাসে চাঁদা তোলার জন্য মন্টু শেখ দায়িত্বে রয়েছেন। ৩২ জন করে উভয় প্রান্তে মোট ৬৪ জন চাঁদা উত্তোলনকারী, কলারবয়, চুঙ্গি ও চেইন মাস্টার দায়িত্বে রয়েছেন। এখানে গোপনে প্রতিটি যানবাহন হতে ১২০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদা আদায়কারী রফিক জানান, ১০ শতাংশ টাকা উত্তোলনকারী বাদে বাকি টাকা বিভিন্ন ফান্ডে যায়।
এদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শাপলা চত্বর, খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেট, জজকোর্ট মোড়, রেলগেট, ধরলা ব্রিজ, বীরপ্রতীক তারামন বিবি সড়ক মোড়, যাত্রাপুর, পাটেশ্বরী ও কাঁঠালবাড়ী বাজার এলাকায় নির্বিঘ্নে তোলা হচ্ছে চাঁদা। এ ছাড়া রাজারহাট উপজেলার চওড়া বাজার, সেলিম নগর, রেলগেট, নাজিম খাঁ, চাঁদনী কর্নার, কলেজ মোড়, আদর্শ বাজার, সিংগের ডাবরী, বৈদ্যের বাজার ও রেলস্টেশনে চাঁদা তোলা হচ্ছে নিয়মিত।
পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম থেকে রংপুর, লালমনিরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং অভ্যন্তরীণ পথে প্রায় পাঁচ হাজার যানবাহন চলে। এসব যানবাহন থেকে নানা অঙ্কে চাঁদা তোলা হয়।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার টার্মিনালগুলো থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকাগামী প্রতিটি বাস-ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের যৌথভাবে নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তিরা ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০০-৬০০ টাকা, পিকআপ থেকে ৪০০-৫০০ টাকা, বাস থেকে ৮০০-১০০০ টাকা, মাইক্রোবাস থেকে ৮০০-১০০০ টাকা ও প্রাইভেট কার থেকে ৫০০ টাকা করে তোলা হচ্ছে চাঁদা।
সড়কে চলাচলরত পণ্যবাহী ট্রাক থেকে প্রতিদিনই চাঁদা আদায় করে পুলিশ। বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এর প্রতিবাদ করলে বেড়ে যায় হয়রানি।
বগুড়া জেলা বাস-মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘মহাসড়কে কোনো চাঁদা তোলা হয় না। শুধু শ্রমিক ফেডারেশনের নির্ধারিত শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ চাঁদা নেওয়া হয়। এ ছাড়া চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর সংগঠনের কোনো শ্রমিক নেতারা জড়িত নন।’
চাঁদা দিতে দিতেই সিলেট থেকে ঢাকা
পরিবহন শ্রমিকদের হাতে চাঁদার টাকা তুলে দিয়েই সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করেন যানবাহন চালকরা। আর পথে পথে চাঁদার জন্য রীতিমতো হাঁ করে থাকে পুলিশ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি যানবাহন সিলেট থেকে ঢাকা যেতে পরিবহন শ্রমিকদের গাড়িপ্রতি দিতে হয় এক হাজার টাকা। আর পুলিশকে তিন স্থানে দিতে হয় ন্যূনতম দুই হাজার ২০০ টাকা। এর বাইরে যাত্রী এনে দেওয়ার জন্য দালালকে যাত্রীপ্রতি ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকলেও মাইক্রোবাসের মাধ্যমেই এভাবে চলছে দূরপাল্লার যাতায়াত।
চালকরা জানিয়েছেন, সিলেট থেকে ঢাকা যেতে কমপক্ষে তিন জায়গায় পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়। এর বাইরেও দুটি স্থানে অনিয়মিতভাবে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া স্ট্যান্ডে চাঁদা নেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ মাইক্রোবাস সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা অন্যত্র যাতায়াত করছে। এতে করে প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার ‘চাঁদা বাণিজ্য’ হচ্ছে এ পথে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের কাছে রাস্তায় দাঁড় করানো রয়েছে ছোট-বড় মাইক্রোবাস। মূলত দূরপাল্লার পরিবহনের শ্রমিকরাই এর হর্তাকর্তা। দূর গন্তব্যের যাত্রীরা যানবাহনের খোঁজে বাস টার্মিনাল এলাকায় এলে পড়েন পরিবহন শ্রমিকদের খপ্পরে। এরা যাত্রীদের এক হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত যাকে যেভাবে সম্ভব ম্যানেজ করে নিয়ে যান মাইক্রোবাসচালকের কাছে। চালক যাত্রীপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পান। বাকিটা চলে যায় দালালের পকেটে। এ ছাড়া মাইক্রোবাসপ্রতি পরিবহন শ্রমিকদের আলাদা এক হাজার টাকা করে দিতে হয়। এরপর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে পথে পথে পুলিশকে চাঁদা দিতে হয় চালকদের। এ ক্ষেত্রে আরো দুই থেকে তিন হাজার টাকা চাঁদা যায় পুলিশের হাতে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজি ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘বাস চলাচল করছে না। এগুলো মাইক্রোবাসচালকরা করছে। এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মানুষও জরুরি প্রয়োজনে যাচ্ছে, সে জন্য আমরা বাধা দিচ্ছি না।’
সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অবগত। এসব বন্ধে নিয়মিত অভিযানও চালাচ্ছি। কিন্তু তারা নানা কৌশলে যাত্রী পরিবহন করছে। যাত্রীরাও গন্তব্যে যেতে মরিয়া। এ কারণে অভিযান চালিয়েও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, চাঁদাবাজিতে সরগরম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বল্প পরিসরে চলাচলকারী পরিবহনগুলোতে থেমে নেই চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। মহাসড়কের ছোট-বড় ট্রাক, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকেও পুলিশ ও পরিবহনের চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের চাঁদাবাজি চলছেই। এক রকম প্রকাশ্যেই তারা পরিবহন শ্রমিক ও চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, শিমরাইল, কাঁচপুর, মদনপুর ও ডেমরা এলাকার স্টাফ কোয়ার্টারে গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক-মহাসড়কে চলাচলরত সব ছোট-বড় যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হচ্ছে। যদি কোনো চালক চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা দিতে না চায়, তাহলে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় এক পরিবহন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাইনবোর্ড এলাকায় অর্ধশতাধিক পরিবহন থেকে মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এ চাঁদার ভাগ পান ট্রাফিক পুলিশ প্রশাসনের কর্তাকর্তারাও।
মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় কথা হয় একাধিক পরিবহন চালক ও মালিকের সঙ্গে। তাঁরা জানান, বন্দরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আমির হোসেন তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন শফিউল্লাহসহ একটি সিন্ডিকেট মহাসড়কের বিভিন্ন গণপরিবহন থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলে থাকেন। আমিরের নামে পরিবহন চাঁদাবাজিসহ ২০-২৫টি মামলাও রয়েছে।
রাজধানী সুপার পরিবহনের চালক মাহবুর হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় চাঁদাবাজ ও ট্রাফিক পুলিশকে প্রতিদিন ৮০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তবে বর্তমানে করোনার কারণে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি।’
এদিকে পরিবহন মালিক, শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম-বান্দরবান মহাসড়কের নানা পয়েন্টে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ঘাটে-ঘাটে চাঁদা নিচ্ছেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন স্ট্যান্ডে মালিক-শ্রমিকদের একাধিক অংশও টাকা তুলছে সমানতালে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাইক্রোবাসচালক বলেন, ‘ঈদের পরের দিন সকালে চট্টগ্রামের বড়দীঘির পার থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে নোয়াখালীর মাইজদী যাচ্ছিলাম। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে চৌমুহনী এলাকা পার হওয়ার সময় ট্রাফিক সার্জেন্ট সিগন্যাল দিলে আমি দাঁড়াই। গাড়ির কাগজপত্র দেখালে পরে বলেন, ‘মুভমেন্ট পাস কই’। পাস না থাকার কারণে ৫০০ টাকা দাবি করে। টাকা দেওয়ার পর গাড়ি ছেড়ে দেয়।
চট্টগ্রামের মিরসরাই সদর ও বারৈয়ারহাট থেকে মাইক্রোবাস ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। নিজামউদ্দিন নামের এক চালক বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশকে মাসিক নির্ধারিত চাঁদা দিয়ে গাড়িগুলো চলছে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কে পরিবহন চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। কোনোভাবেই চাঁদাবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, ‘মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে অনেক চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
অন্য মহাসড়কেও চাঁদাবাজির একই ছবি
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-খুলনা ভায়া পাটুরিয়া সড়কে সক্রিয় রয়েছে চাঁদাবাজদের একাধিক সিন্ডিকেট। এদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন যানবাহনের চালকরা। বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন নামের স্থানীয় অবৈধভাবে চলাচলকারী পরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান, ট্রাকচালকরা জানিয়েছেন, পুলিশ ও বিভিন্ন জেলায় এক শ্রেণির শ্রমিক নেতাদের চাঁদা দেওয়ার কারণে তাঁরা যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটই ভাড়া ও চাঁদার অঙ্ক নির্ধারণ করে দিচ্ছে।
পরিবহন নেতারা কী বলছেন
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতউল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি, স্থানীয় কিছু মাস্তানশ্রেণির লোক চাঁদা নিয়ে দূরপাল্লার বাস চলাচলে সহায়তা করছে। আবার কোথাও কোথাও পুলিশের নামেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাজী ফরিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দূরপাল্লার বাস চলাচল না করার কারণে বিভিন্ন পথে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মহাসড়কে অবৈধভাবে বিভিন্ন যান চলাচল করছে। যানবাহনগুলোর কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে স্থানীয় কিছু শ্রমিক নেতা, কিছু মাস্তান এবং পুলিশের নামেও এরা চাঁদা তুলছে বলে শুনেছি।’