সৌদি আরবে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি,বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেকেই ভোটার হতে পারেননি। তবে যারা ভোটার হয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , এবারের নির্বাচনকে তারা দেখছেন দেশ পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটাররা বলছেন,উখিয়া–টেকনাফে এবার জনমত আগের মতো নেই। অনেকেই বলেছেন, এলাকায় দাঁড়ি পাল্লার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে প্রবাস থেকেই টিম ওয়ার্ক চলছে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। পালংখালী ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ও বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থানরত মোস্তাক আহমদ বলেন, প্রবাস জীবনে এসে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই বদলে যায়। সৌদি আরবে অবস্থান মানেই ইসলামী পরিবেশের ভেতর দিয়ে প্রতিদিনের জীবন যাপন। নামাজ, আচার-আচরণ, পারিবারিক দায়িত্ব, সবকিছুতেই ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব পড়ে। তাঁর ভাষায়, “মানুষ সৌদি আরবে আসলেই জীবনটা নতুন করে দেখে।”
তিনি আরও বলেন, এই বাস্তবতার কারণেই অনেক প্রবাসী তাদের প্রথম ভোটটি ইসলামের পক্ষে দিতে চান। জামায়াতে ইসলামীকে তারা একটি সুসংগঠিত ইসলামী দল হিসেবে দেখছেন। তাই দলীয় প্রতীকের প্রশ্নে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়ি পাল্লার পক্ষে তাদের অবস্থান। হ্যাঁ ভোটেও ভোট দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। জেদ্দায় অবস্থানরত মোহাম্মদ বিন জুবায়ের জিয়াউর রহমানের গাছ লাগানোর অবদানের কথা স্বরণ করে দিয়ে বলেন, এখানকার হাজিরা জিয়াউর রহমানের লাগানো গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়। জিয়ার আদর্শকে ধরে রাখতে এবার আমি শাহজাহান চৌধুরী তথা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিব। আমার বন্ধু ও পরিবার পরিজন সবাই মিলে ধানের শীষে ভোট দিবেন।
প্রবাসীদের এসব কথায় বোঝা যায়, উখিয়া–টেকনাফের রাজনীতিতে প্রবাসী ভোটারদের প্রভাব শুধু ভোটকেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়। দূরে থেকেও তারা এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয়, মতামত দিচ্ছেন, জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছেন। এনআইডি জটিলতা কাটিয়ে যারা ভোটাধিকার পেয়েছেন, তাদের প্রথম ভোটকে ঘিরে যে আবেগ ও প্রত্যাশা, তা এবারের নির্বাচনে উখিয়া–টেকনাফে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) তথ্য বলছে, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রবাসী পোস্টাল ভোটারদের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিবন্ধনকৃত প্রবাসী ভোটারদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পোস্টাল ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছে। প্রবাসী নিবন্ধিতরা ১০ জানুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ডাকে ব্যালট হাতে পাবেন। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা ব্যালট হাতে পেয়েছেন। হিজলিয়া এলাকার বাহার উদ্দিন ও খাইরুল হক জানান , সাদা খামের ভেতর উখিয়া টেকনাফ আসনের চারজন প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ ব্যালট এবং হ্যাঁ,না গণভোটের পেপার পেয়েছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পাঠানো সাদা খামের ভেতর হলুদ রঙের ফিরতি খাম দেয়া হয়েছে। যেটার মাধ্যমে আমরা ভোট দিয়ে হলুদ রঙের খামটি পাঠিয়ে দিব।আমরা ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত। তারা ব্যালট পূরণ করে যথা সময়ে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। নির্বাচনকালীন সময়ের মধ্যে ব্যালট পৌঁছাতে হবে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যে জানা যায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ,১৯৭২ এর বিধান অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিধান রয়েছে। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যাক্তি যিনি তার নির্বাচনী এলাকার বাইরে চাকরিসূত্রে অবস্থান করছেন তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারবেন। উখিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, এবারই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উভয়টিতে ভোটদানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে