হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ ::
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা সমাধানে লক্ষ্য সরেজমিনে দেখতে সেন্টমার্টিনে এসেছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ।
দ্বীপের বেড়াতে আসা পর্যটকদের রেখে যাওয়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নিয়ে শনিবার সকালে নানান শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপের জীববৈচিত্র্য যাতে কোনো ধরনের হুমকির মুখে না পড়ে সেইজন্য সকলের মতামত নেওয়া হবে।
দ্বীপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক স্থানীয় সাড়ে ১০ হাজার বাসিন্দাদের দুঃখ দুর্দশা পাশাপাশি তাদের কথা শুনতে সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছেন।
শুক্রবার সকালে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ করে সেন্টমার্টিনে পৌঁছান চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো কামরুল হাসান এনডিসি ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
এ দলের সঙ্গে রয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী , সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো এরফানুল হক চৌধুরী ও কমিশনারের একান্ত সচিব খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত প্রমূখ।
(আজ) শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেলে পর্যন্ত প্রতিনিধি দলটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের ১০শয্যা হাসপাতাল সংলগ্ন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আশ্রয়ণ প্রকল্প গুচ্ছগ্রাম ( ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয় সেন্টমার্টিনে)। এখানে বসবাসরত ৫০পরিবারকে দেখতে যান এবং তাদের খোঁজ খবর নেন। ওইসব ঘর বিভিন্ন সময়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিবারগুলোর বসতির সংস্কারের উদ্যোগ।
আশ্রয়নের মসজিদের উন্নয়নে তাৎক্ষণিক বরাদ্দ অনুমোদন দেন। একই সঙ্গে কোনারপাড়া মসজিদের পানি সমস্যা-সমাধানের জন্য টিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন স্থানে বালিয়াড়ি ভাঙ্গনের স্থানগুলো তারা পরিদর্শন করেছেন।
শনিবার সকালে পরিবেশ, প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ওপর স্থানীয় জনসাধারণ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ীসহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপের জীববৈচিত্র্য যাতে কোনো ধরনের হুমকির মুখে না পড়ে সেইজন্য সকলের মতামত নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, প্রতিবছর সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রচুর পর্যটক ভ্রমণ করতে আসছেন। কিভাবে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার পাশাপাশি দ্বীপে বসবাসকারী মানুষের নানান ধরনের সমস্যাগুলো সমাধান খুঁজে বের করার জন্য প্রথমবারের মতো বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে সেন্টমার্টিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। সকলের সহযোগিতা ফেলে পরিবেশবান্ধব সেন্টমার্টিন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকত রাখার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার মো কামরুল হাসান এনডিসি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বসতি স্থাপনের জন্য সেন্টমার্টিনে প্রথম গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প হাতে নেয়। তখন থেকেই ৫০টি পরিবার এখানে বসবাস করে আসছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ঘরগুলো মেরামত করা হয়নি। সরেজমিনে এসব দেখতে এসেছি। পাশাপাশি মুজিব শতবর্ষে উপলক্ষে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না বলে তিনি জানান।