সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত এবং রাত্রিযাপনের ক্ষেত্রে জারি করা বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনজীবিকা এবং পর্যটন খাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই সিদ্ধান্ত শিথিলের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
জাতীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কঠোর সিদ্ধান্ত পর্যটনের বাস্তবতা ও স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। কেবল ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস রাত্রিযাপনের নিয়মকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই অংশীজন, পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করা হবে। রাষ্ট্রের তদারকি সক্ষমতা, জবাবদিহিতা ও সচেতনতা বাড়িয়ে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসা সচল রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
অন্যদিকে, বিধিনিষেধ একবারে শিথিল করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাতকারে সেভ আওয়ার সি-এর নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বাইক চালানো কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ধ্বংসাত্মক পর্যটন বন্ধ করে ধারণক্ষমতা (ক্যারিং ক্যাপাসিটি) মেনে সুনির্দিষ্ট নিয়মে পর্যটন চালুর তাগিদ দেন তিনি।
১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং ২০২২ সালে মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া ঘোষিত এই দ্বীপে সীমাহীন দূষণ রোধে ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক প্রবেশ এবং কেবল দুই মাস রাত্রিযাপনের কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছিল।