
প্রথা ভেঙে কনেযাত্রী নিয়ে বরের বাড়ি বিয়ে করতে যাওয়া সেই কনে এবার বরের বাড়ি গেলেন অষ্ট মঙ্গলায়। রোববার কনের চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামের বাড়িতে বরভাত অনুষ্ঠান হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে কনে খাদিজা আক্তার খুশি বর তরিকুল ইসলাম জয়কে নিয়ে রাত ৯টার দিকে শ্বশুরবাড়ি যান অষ্ট মঙ্গলা করতে।
স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী বর শ্বশুরালয়ে আটদিন অবস্থান করেন। সেখানে কনের নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। পরে কনেকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে গিয়ে সংসার করেন বর। এই প্রথা এ এলাকায় অষ্ট মঙ্গলা হিসেবে পরিচিত। বিয়ের মতো অষ্ট মঙ্গলার প্রথাও ভাঙলেন কনে। বরের আত্মীয়দের বাসায় আতিথেয়তা গ্রহণ করে আট দিন পর বরকে নিয়ে যাবেন বাবার বাড়ি। তারপরে স্বামীর সংসারে থিতু হবেন কনে।
তবে এ বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কেউ সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার কেউ তিরস্কারও করছেন। লোকে যাই বলুক, বর-বধূ ও তাদের পরিবার এমন ব্যতিক্রমী বিয়ের অয়োজনে ভীষণ খুশি।
তরুণ ব্যবসায়ী বর তরিকুল ইসলাম জয় বলেন, পুরুষশাসিত সমাজে মেয়েদের তেমন প্রাধান্য দেওয়া হয় না। নারী ও পুরুষের এই বৈষম্য দূর করতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন। লোকে যে যাই বলুক বিয়েটা আমরা খুব উপভোগ করছি। বিয়ে-পরবর্তী জীবনটা যেন সুখে-আনন্দে একে অপরের হাত ধরে চলতে পারেন সবার কাছে সেই দোয়া চান তিনি।
কনে খাদিজা আক্তার খুশি বলেন, সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও নারীদের সে অধিকার কখনও দেওয়া হয় না। সমান অধিকারের বিষয়টি যারা মানতে পারছেন না, তারা নানা সমালোচনা করছেন। ঘটনাটি প্রথম তাই নানা সমালোচনা হচ্ছে।
বরের বাবা আব্দুল মাবুদ বলেন, নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি সামনে আনতেই এ ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন করলাম। আমার ধারণায় ছিল না বিষয়টা সারাদেশে এভাবে সাড়া ফেলবে। এখন অনেক লোক বাড়িতে বর-বধূকে দেখতে আসছেন, নানা কথা জিজ্ঞেস করছেন। আমার খুব ভালো লাগছে।
কনের বাবা কামরুজ্জামান বলেন, মেয়ের ইচ্ছেতেই এমন বিয়েতে রাজি হওয়া। বিয়ের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অনেকে দেখতে আসছেন। এতে ভালো লাগা ও মন্দ লাগা দুটোই কাজ করছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই নতুনত্বের স্বাদ নিতে বিয়েতে ব্যতিক্রমী নানা আয়োজন করে থাকেন অনেকে। আমাদের দেশে এমন বিয়ে নতুন বলে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
এমন বিয়েকে বর-কনের পরিবারের সাহসী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক আতাউল গনি।
গত শনিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামের খাদিজা আক্তার খুশি প্রথা ভেঙে তার পরিবারসহ কনেযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে যান মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চৌগাছা গ্রামের বর তরিকুল ইসলাম জয়ের বাড়িতে। পরে সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে বরকে নিয়ে নিজ বাড়ি ফেরেন।