ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনের নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মিছিল, পথসভা ও সমাবেশে প্রার্থী ও সমর্থকরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যস্ত।
একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এই আসনের উত্তাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিভিন্ন পথসভায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন, কলেজ স্থাপন, শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতের অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিভ্রান্তি বন্ধ ও মানুষের মৌলিক অধিকার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সাবেক উপজেলা চেয়াম্যান অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী বলেন, মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে সঠিক পথে সরানো সম্ভব নয়; তারা সচেতন।
তবে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল এলাকায় ঘটে গেল এক মানবিক দৃশ্য, যা নির্বাচনী উত্তাপকে কিছুক্ষণ স্থবির করে দিল। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে নিহত শিশু হুজাইফার জানাজায় পাশে পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।
সরজমিনে দেখা গেছে, জানাজার কাতারে কোনো রাজনৈতিক প্রতীক বা স্লোগান ছিল না। ছিল শুধু শোক, নীরবতা এবং সীমান্তবাসীর দুঃখ।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনীতি সবসময় আছে, কিন্তু আজ তা নেই,শিশুর মৃত্যু সবকিছুকে ফিকে করে দিয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, মৃত্যুর সামনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেমে যেতে পারে, মানুষ মিলিত হতে পারে মানবিক শোকের এক কাতারে। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায় মৃত্যুর পর যদি আমরা এমন মানবিক হতে পারি, তাহলে বেঁচে থাকতে কেন পারি না!
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই দৃশ্য একদিকে মানবিকতা ও সীমান্তবাসীর নিরাপত্তার গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়, অন্যদিকে নির্বাচনকালীন উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে মানবিক মাত্রা কোথায় থাকবে,সেই প্রশ্নও উঠে আসে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে এলাকাবাসী মনে করছেন, মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করেই আসন্ন ভোটের উত্তাপ শান্তিপূর্ণভাবে পার করা সম্ভব।