গফুর মিয়া চৌধুরী,উখিয়া থেকে: 
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে ২২মার্চ দুইটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে লন্ডভন্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার পরিবারকে খাদ্য সরবরাহ করে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্হা ওয়ার্ল্ড ভিশন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচীর পক্ষ থেকে ওয়ার্ল্ড ভিশন রোহিঙ্গাদের খাদ্য প্রদানের দায়িত্ব পান। ইতিমধ্যে প্রায়১০ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুকে সকাল বিকেল দুই বেলা ভাত প্যাকেট জাত করে খাবার সরবরাহ করে আসছে। প্রতি বেলা ভাত দেওয়ার খাদ্যের তালিকায় রয়েছে শুধু সবজি আর সবজি। এসব নিম্নমানের খাবার রোহিঙ্গারা খেতে না পেরে যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছে। প্রতিদিন খাদ্যের তালিকায় সবজি ছাড়া কিছু না থাকায় এ ধরনের খানা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্টি। আজ শুক্রবার বিকেলে বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেলে রোহিঙ্গারা তাদের মানবিক জীবন যাপন ও অভাব অনটনের কথা এ প্রতিবেদককে জানান। রোহিঙ্গারা বলেন, প্রতিদিন এনজিও ' সংস্হা গুলোর শুধু সবজি দিয়ে এক ধরনের খাবার আমরা কত খাব? সকাল বিকেল সবজি দিয়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ভাত খেতে চায় না। অনেক রোহিঙ্গারা এক ধরনের খাবার নিয়ে তাদের অনীহার কথা জানান। শত শত রোহিঙ্গারা খাবার না খেয়ে যেখানে সেখানে ফেলে দিচ্ছে। এসব খাবার সর্বত্র স্তুপে পরিণত হচ্ছে। আর পড়ে থাকতে থাকতে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া স্হানীয় ১ নং ওয়ার্ডের শত শত বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, রোহিঙ্গারা প্রতিদিন সবজির খাবার খেতে না পেরে খুবই অসনতুষ্টিতে রয়েছে। তারা এসব সবজি মিশ্রিত খাবারের প্যাকেট শুধু ফেলে দিচ্ছে। এসব হাজার হাজার প্যাকেট খাবার দিনের পর দিন পছে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্হানীয় গ্রামবাসীরা পচা গন্ধে ঘরে বাইরে থাকতে পাচ্ছে না। এলাকার পরিবেশ গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে। এদিকে মাদার এনজিও সংস্হা ওর্যাল্ড ভিশন থেকে খাদ্য সরবরাহের কাজ পান ব্র্যাক, রিক ও সুশীলন। তাঁদের খাবারের গুনগতমান নিয়ে ও নানান প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আল মদিনা হোটেলের খাবারের মান খুবই খারাপ বলে রোহিঙ্গারা জানান। অসংখ্য রোহিঙ্গা বলেন, আল মদিনা লেখা আছে এসব প্যাকেটের খাবার ভাল নয়। কি ধরনের ভাল নয় এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন,ভাত বেশি নরম ও প্যাচাল, সবজি নিম্নমানের, মরিচ-হলুদ কম, লবন ঠিক ভাবে দেয় না এবং আর যথা সময়ে খাবার পৌঁচ্ছে না।
এ বিষয়ে মাঠে সুপার ভিশনে দায়িত্বরত ওয়ার্ল্ড ভিশনের ফুর্ট সিকিউরটি কডির্নেটর প্রদীপ কুমার সুতরা বলেন, রোহিঙ্গারা প্রতিদিন সকাল বিকেল সবজির খাবার ঠিক ভাবে খেতে চায় না। তারা খাবার নিয়ে অনীহার কথা জানান। তার পরে ও আমরা খাবার দিয়ে আসছি। রোহিঙ্গাদের সরবরাহকৃত খাবারের ভেন্যু নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে। পরির্বতন হতে পারে।