সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :: 
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক।
সোমবার বিকেলে উখিয়ার কুতুপালং বালুখালী এলাকার রোহিঙ্গা শিবিরে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে হাজারো পরিবার।
জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এবং উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ব্র্যাককে মানবিক সহায়তা প্রদানের আহবান জানিয়েছেন।
এ দিকে ঘটনার পরই ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জরুরি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের সদস্যসা সেফ শেল্টারে অবস্থানরত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ব্যাসিক ফার্স্ট এইড সার্ভিস দিচ্ছেন। এছাড়াও ক্যাম্প ৮ই এবং ক্যাম্প ১৩ তে ব্র্যাক পরিচালিত প্রাইমারি স্বাস্থ্যসেবা সেন্টারগুলো পুরোপুরিভাবে সচল রাখার পাশাপাশি বালুখালী কাশেমিয়া হাই স্কুলে ১০-১২ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই ২৩৩ জন আহতকে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে।
এছাড়া বালুখালি কাশেমিয়া হাইস্কুল মাঠে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ১১ হাজার ৯০০ প্যাকেট ফর্টিফাইড বিস্কুট (৫৯৫ কেজি) এবং ৮০০০ লিটার খাবার পানি বিতরণ করেছেন ব্র্যাক প্রতিনিধিরা। এছাড়াও ৫৫৬ জনকে দুপুর ও রাতের জন্য মোট ৮১৯ প্যাকেট রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি পানির প্রয়োজন মেটাতে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে অক্সফামকে ৫৫০০ জেরিক্যান দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৮০০টি ক্যান বিতরণের জন্য মজুদ রাখা হয়েছে। নিরাপদ শেল্টার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ৯৭৭টি তেরপল বিতরণ করেছে ব্র্যাক ও জরুরি আশ্রয় প্রয়োজন মেটাতে আরও ১০০০টি তেরপল মজুদ রাখা হয়েছে।
ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির পরিচালক সাজেদুল হাসান বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ দুর্যোগ। আমরা আশা করছি, সরকারের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলো দ্রুততম সময়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। ব্র্যাক ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেছে। আহতদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।’
তিনি জানান, ক্যাম্প ৮ই, ৮ডব্লিউ, ৫ এবং ৬ এ আশ্রয় নেওয়া নারী এবং বালিকাদের সহায়তায় প্রিভেন্টিং জেন্ডার বেজড ভায়োলেন্স (লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতারোধ) টিমের পক্ষ থেকে ৪টি সাব-সেক্টর ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া নারী এবং বালিকাদের জরুরি প্রয়োজনে ১০০০টি জরুরি ডিগনিটি কিট প্রস্তুত রাখা আছে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের শনাক্তকরণে এবং সহায়তায় শিশু সুরক্ষা টিমের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত যে সকল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু শনাক্ত হয়েছে তাদের মাঝে বিস্কুট বিতরণ এবং তাদের সেফ শেল্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সাজেদুল হাসান বলেন, এই দুর্যোগ নিরসনে এবং সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এগিয়ে আসা সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, অংশীদার সংস্থাসমূহ, এবং ফ্রন্টলাইনারদেরকে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে।