উখিয়া নিউজ ডটকম::
p
দুই বছরের চেষ্টায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি। আজ রোহিঙ্গা ঢলের দু’বছরপূর্তি হচ্ছে। দু’দিন আগে প্রত্যাবাসন শুরুর সর্বশেষ চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেটাও ব্যর্থ। প্রশ্ন ওঠেছে এর নেপথ্যে কি এমন কারণ যে আগাগোড়ায় চীনের মধ্যস্থতা ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের ক্যাম্প এলাকায় উপস্থিত থাকার পরও কেন একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে রাজী হলো না? এখানে বাংলাদেশের দায় বা দায়িত্বে কোন অবহেলা বা গাফলতি ছিল কি? বাংলাদেশ সরকার, পেশাদার কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চিন্তিত পুঞ্জিভূত এ সঙ্কটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আগামীতে এটি কোন দিকে মোড় নেবে এ নিয়ে চিন্তিত তারা। হতাশাগ্রস্থ রোহিঙ্গারা উগ্রবাদের বড় ক্ষেত্র হচ্ছে কি-না? তা নিয়েও উদ্বিগ্ন বিশ্ব সম্প্রদায়। এটি গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কায় বাংলাদেশ সরকারসহ স্থানীয় নাগরিকরা।
কিন্তু এই যখন অবস্থা তখন রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি যেখানে সেই মিয়ানমার দোষারোপ করছে বাংলাদেশকে।
তারা পুরনো সেই ‘ব্লেমগেম’-এর বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, এটা ব্লেমগেমের বিষয় নয়। ঢাকা যা করছে বা করেছে তা সারা দুনিয়ার সামনে স্বচ্ছ। বাস্তবতার নিরিখে এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মতে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের যে কাজ তার সবটুকুই করছে ঢাকা। এতে একটুও গাফলতি ছিল না। তাছাড়া প্রত্যাবাসনে এবারের চেষ্টার মধ্যস্থতায় ছিল চীন, সেই চীনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই সব করেছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতির সব কিছু দেখেছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধিও। তারপরও মিয়ানমারের এ নিয়ে বাংলাদেশকে দোষারোপ কেবল অযৌক্তিক নয়, এটা অন্যায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অর্থাৎ বিরোধী মহল থেকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে সরকার কূটনৈতিকভাবে ‘শক্ত’ অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রত্যাবাসন হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন অবশ্য এর জবাব দিয়েছেন। তিনি গাফলতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বলেছেন আগামী দিনে এ ইস্যুতে ‘শক্ত’ অবস্থান নেবে সরকার। তিনি এটাও বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আরাম আয়েশ থাকবে না। ক্যাম্পে প্রত্যাবাসন বিরোধী এনজিওদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
মন্ত্রীর সঙ্গে সুর মিলেয়ে প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, কিছু সমস্যা আছে ক্যাম্পে কাজ করা এনজিওগুলোর মধ্যে। এটা দূর করা হবে। এদের বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার কতটা আন্তরিক? তারা কি আদৌ এদের ফেরাতে চায়, নাকী বৈশ্বিক চাপ সামলাতে নানা অজুহাত খুঁজছে, যার একটি হচ্ছে ‘আমরা প্রস্তুত, বাংলাদেশ ফেরত পাঠাতে পারছে না’ এমন ক্যাম্পেইন। প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখানে যে মূখ্য তা হল- আস্থার সঙ্কট। রোহিঙ্গাদের সব দাবি যৌক্তিক নয়, কিন্তু কিছু বিষয় আছে যা মৌলিক, সেটি মিয়ানমারকে অ্যাড্রেস করতে হবে।
প্রথমতঃ রাখাইনে ফেরার জন্য তাদের নিরাপত্তা ও বসবাসের জন্য কি আয়োজন করেছে মিয়ানমার তা বাংলাদেশ সরকার তথা দুনিয়াকে দেখাতে হবে। তারা কি এটা দেখিয়েছে? আদতে তা এখনও দেখায়নি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা রাখাইন ঘুরে এসেছেন। সেখানে তাদের রিসিভিং সেন্টার, যেখানে কেউ ফিরে গেলে রাখা হবে, সেটা দেখানো হয়েছে। কিন্তু ওই সেন্টারে তারা থাকবে এক বা দু’দিন। এর পর তাদের যেখানে নিয়ে যাওয়া হবে তা কাউকেই দেখায়নি মিয়ানমার। বলা হচ্ছে- ভারত ২৫০ বাড়িঘর তৈরি করে দিয়েছে। চীন প্রায় ১ হাজার বাড়ি তৈরি করছে। কিন্তু সেটা রাখাইনের কোথায়, কি অবস্থায় আছে সে বিষয়ে খোলাসা করে বলছে না মিয়ানমার।
ফলে এ সম্পর্কে না বাংলাদেশ জানে, না জানে বিশ্ব। রোহিঙ্গারা তো পুরোপুরি অন্ধকারে। দ্বিতীয়তঃ ওই এলাকায় তারা ফেরার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবেশাধিকার থাকবে কি-না? রোহিঙ্গারা মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারবে কি-না? রাখাইনে এখনও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি উন্মুক্ত করেনি মিয়ানমার। এটাও একটা বড় ভয়, যে সেখানে ফেরার পর তাদের ফের আইডিবি ক্যাম্পের আদলেই বন্দি জীবন কাটাতে হবে কি-না? মিয়ানমার তাও স্পষ্ট করেনি। রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব এবং তাদের ওপর চলা বর্বরতার বিচারের দাবি করছে। যেটুকু খবর পাওয়া গেছে, বাংলাদেশ এ ইস্যুতে চীনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। চীন যেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছে তা হল নাগরিকত্ব, এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া, মিয়ানমার যেটা বলছে তাতেই ঢাকাকে আস্থা রাখতে হবে, প্রত্যাবাসন শুরু করতে হবে। বাস্তুচ্যুতরা ফিরে যাওয়ার পর একটা কার্ড পাবে। পরবর্তীতে আইন সংশোধন এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। বাংলাদেশ এতদিন এ নিয়ে দরকষাকষি করলেও চীনের মধ্যস্থতায় ঢাকা এখন এতে খানিকটা ছাড় দ