কক্সবাজারের কুতুপালং এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা, টমটম ও সিএনজির দৌরাত্ম্য। অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত এখন এসব যানবাহনের অবাধ বিচরণে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ যানবাহনের মালিক ও চালক রোহিঙ্গা হলেও প্রশাসনের নীরবতায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুপালং এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহনের নেই কোনো বৈধ নিবন্ধন, চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা প্রশিক্ষণ। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অপরিকল্পিত ও বেপরোয়া গতিতে রোহিঙ্গা চালকদের গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সের মানুষ আহত হচ্ছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর চালকরা পালিয়ে গেলেও আইনের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা, শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ যান চলাচল করছে। এছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু দালালের সহযোগিতায় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে রাতভর চার্জ দেওয়া হচ্ছে শত শত ব্যাটারি। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহ ভোল্টেজ সংকটে ভুগছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
স্থানীয়দের দাবি, কুতুপালং ও আশপাশের এলাকায় রোহিঙ্গাদের পরিচালিত টমটম গ্যারেজে দিন-রাত ব্যাটারি চার্জ করা হয়। এসব গ্যারেজে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সড়কে এসব অবৈধ যান চালাতে হলে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন ও হাইওয়ে পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যকে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয়। মাঝেমধ্যে হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকটি গাড়ি আটক করলেও পরে টাকার বিনিময়ে তা ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোহিঙ্গাদের অবৈধ যানবাহনের কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক এলাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটছে। অথচ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল দ্রুত অবৈধ ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধ, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।