কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টিতে প্রাণঘাতী ভূমিধসের ঘটনার পর ক্যাম্পের অতিরিক্ত ভিড় কমাতে আরও জমি বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ক্যাম্পগুলোতে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের জন্য ক্যাম্প সম্প্রসারণ ও অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তাদের অধিকাংশই ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
রোহিঙ্গারা মূলত পাহাড় কেটে তৈরি করা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। বর্ষা মৌসুমে এসব পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রতিবেদনে UNHCR বলেছে, ক্যাম্পের স্থান ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং যেখানে সম্ভব অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা সহজ হবে।
বাংলাদেশে UNHCR-এর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইজসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের সামনে থাকা অনেক ঝুঁকিই আগে থেকেই জানা ছিল এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। তবে পর্যাপ্ত জমির অভাব এবং অর্থায়নের সংকটের কারণে অতিরিক্ত জনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে নিরাপদভাবে পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দেশটি ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার বোঝা বহন করছে এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই সমাধান।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক অভিযানে গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, বেসামরিক মানুষকে হত্যা এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) গণহত্যার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।