উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
পুনর্বাসন ছাড়াও আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ভাসানচরে স্থানান্তরের পর সেখানে তাদের দিয়ে কৃষিকাজ করানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। কর্মকর্তারা বলছেন, ভাসানচরের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহিষ্ণু জাতের পাট চাষ করানো হবে রোহিঙ্গাদের দিয়ে। গত সপ্তাহে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি কৃষিসংশ্লিষ্ট সব অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের কর্মমুখী করতে তাদের বর্তমান আবাসস্থল ও ভবিষ্যতে ভাসানচরে স্থানান্তরিত হলে ওই এলাকায় চাষ উপযোগী এমন ফসলের বিস্তারিত বিবরণ দিতে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ভাসানচর এলাকার মাটি মৃদু লবণাক্ত ও বেলে। তাই সেখানে সব ধরনের ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ফসলের বিশেষ জাত যেগুলো মৃদু লবণাক্ত ও বৈরী পরিস্থিতিতে উৎপাদন হতে পারে তা ওই এলাকায় চাষ করা হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশি ও তোষা পাটসহ মোট সাত জাতের পাট শনাক্ত করা হয়েছে।
পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল আলম বলেন, মৃদু লবণাক্ততা সহিষ্ণু পাটের জাত রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের গবেষকরাও লবণ সহিষ্ণু পাটের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এগুলো লবণাক্ত চরের এলাকায় খুব ভালো ফলন দেবে
বলে আশা করছি।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভাসানচরের মোট আয়তন প্রায় ১৩ হাজার একর। বর্তমানে সেখানকার প্রায় ১ হাজার ২০০ একরজুড়ে রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার একর সমতল ভূমি রয়েছে, যা যে কোনো সহিষ্ণু জাতের ফসল উৎপাদনের উপযোগী। ফলে রোহিঙ্গারা ভাসানচরে স্থান্তরিত হলে এ চাষযোগ্য জমি যেন কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করতে পারে তাই এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
২০১৯ সালের নভেম্বরে ভাসানচরের যাবতীয় কাজ শেষ হবে। এর পর প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তরিত করা যাবে বলে সরকার আশা করছে। তবে ভাসানচরের কাছেই হাতিয়ায় প্রায় ৬ লাখ বাংলাদেশির বসবাস। যাদের অধিকাংশই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই রোহিঙ্গাদের আগমনে পর যদি তারা নদীতে মাছ ধরতে যায় তা হলে হাতিয়াবাসীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের দ্বারা বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির আশঙ্কাও হয়েছে। আবার রোহিঙ্গারা যদি কোনো ধরনে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকে, তা হলে তারা নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-েও জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নানা দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গারা যেন স্বাভাবিক জীবন নির্বাহ করতে পারে তাই তাদের স্বাবলম্বী করতে কৃষিকাজ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।