
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দীর্ঘদিন পর কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে অন্যতম জিয়াউল করিম রিয়াদ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকার কারণে তাকে শীর্ষ পদে মূল্যায়ন করা উচিত।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর তিন মাসের জন্য ২১ সদস্যবিশিষ্ট উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় আহ্বায়ক কমিটি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করে। সর্বশেষ গত ২৮ জুন কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল উখিয়া উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূলে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ছাত্ররাজনীতিতে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের কঠিন সময়ে সক্রিয় থাকার কারণে রিয়াদ নেতৃত্বের একজন শক্তিশালী দাবিদার।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন জিয়াউল করিম রিয়াদ। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিনিধি ছিলেন। পরে ২০১৬ সালে পালংখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে পালংখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হওয়ার পর থেকে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে থেকেছেন, মামলা-হামলা ও নানা চাপের মধ্যেও সংগঠনকে সক্রিয় রেখেছেন, নেতৃত্বে তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাদের দাবি, রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন এবং ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। ফলে তাকে নেতৃত্বে দায়িত্ব দেওয়া হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন রিয়াদ। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন তার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় দুই দফায় পুলিশ তাকে খুঁজতে গিয়ে বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।
রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন এই তরুণ নেতা। সম্প্রতি নবগঠিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত মিছিল ও শোডাউনে তার সক্রিয় উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা জানতে কেন্দ্র ও জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা।