ইমরান আল মাহমুদ:
কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)'র জারি করা একটি অফিসিয়াল নোটিশকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে কর্মীদের রাজনৈতিক অধিকার হরণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে এ ধরনের নির্দেশনা গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটির উর্ধ্বতন পরিচালক( অর্থ ও প্রশাসন) দিদারুল আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত নোটিশে যা বলা হয়েছে (হুবহু উদ্ধৃতি তুলে ধরা হলো):
“এতদ্বারা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)-এ কর্মরত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রতিষ্ঠানের সুস্থ, স্বচ্ছতাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এবং বর্তমান পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোডেক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
উক্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে আগামী ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে নিজ নিজ থানা/ইউনিয়ন পরিষদ/উপজেলা পরিষদ থেকে ইস্যুকৃত ব্যক্তিগত চারিত্রিক সনদ এবং ব্যক্তি নিজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নন মর্মে উল্লেখিত সনদ দাখিল করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। উক্ত সনদে ব্যক্তির নামে কোনো ধরনের মামলা থেকে থাকলে (ক্লোজ/চলমান) অবশ্যই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
উক্ত বিষয়ে আপনাদের সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি।”
নোটিশটিতে কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার সনদ দাখিলের নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কর্মীদের একটি অংশের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা কর্মকাণ্ড একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, যা চাকরির শর্তের সঙ্গে এভাবে যুক্ত করা অনৈতিক ও বৈষম্যমূলক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, “এ ধরনের নোটিশ আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় চাপ সৃষ্টি করছে। উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও আমরা তো দেশের নাগরিক। রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হলে তা মেনে নেওয়া যায় না।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, উন্নয়ন সংস্থাগুলোতে কর্মপরিবেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার প্রয়োজন থাকলেও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শ যাচাইয়ের নামে চাপ সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
এদিকে নোটিশ জারির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে কর্মীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা বলে মন্তব্য করছেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও পুনর্বিবেচনা না হলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
তবে কোডেক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে কর্মী ও নাগরিক সমাজের দাবি, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখেই যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।