উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন চায় রোহিঙ্গারা। যাতে করে তারা সেখানে তারা নিরাপদে থাকতে পারে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের কাছে এই দাবি জানাবে রোহিঙ্গারা। রবিবার নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলকে দেওয়ার জন্য তারা তিন পাতার একটি আবেদনপত্র এবং ১৩ দফা দাবি সম্বলিত একটি দাবিনামা প্রস্তুত করেছে।
রবিবার (২৯ এপ্রিল) সকালে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবে। সেখান থেকে তারা কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন করবে।
শান্তিরক্ষী বাহিনী ছাড়াও রোহিঙ্গা হিসেবে নাগরিকত্ব ও সেনাবাহিনীর যারা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার দাবি করবে রোহিঙ্গারা। এখানে উল্লেখ্য গত মাসে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী কক্সবাজার সফর করার সময়ে রোহিঙ্গারা একই দাবিনামা পেশ করে।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড সিস্টেম বন্ধ করা এবং জব্দকৃত রোহিঙ্গা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থার করার দাবিও করে তারা। পুরনো সব আইডিপি ক্যাম্প বন্ধ করাসহ জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন চায় রোহিঙ্গারা।
আবেদনপত্রে রোহিঙ্গারা তাদের ইতিহাস এবং মিয়ানমারে ‘৬০ এর দশক পর্যন্ত কী পরিস্থিতি ছিল এবং সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করার পর কী অবস্থা হয়েছিল তার বর্ণনা করেছেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে, ১৮০০ এর বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, ৭২ হাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ৮৬টি গণকবরে কবর দেওয়া হয়। এছাড়া ৭৫ হাজার ঘরবাড়ি লুটপাঠ করা হয়েছে, ৯০০টি মসজিদ এবং ৯৫০টি মাদ্রাসা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাট্রিবিউন