মিুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ধরনের গবাদি পশু আমদানি বন্ধ থাকলেও গত ১৪ মার্চ থেকে আবার গবাদি পশু আমদানি শুরু হয়েছে। মায়ানমারের আভ্যন্তরীন সংকট কাটিয়ে উঠার পর সীমান্তের করিডোর দিয়ে গবাদি পশু আমদানী পুরোদমে শুরু হলেও আমদানিকৃত গবাদিপশু গুলো কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই আমদানি চলছে।
কাস্টমসের কক্সবাজার অফিস জানিয়েছে-১৪ মার্চ থেকে তিন দিনে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে ১৬ টি ট্রলারে করে ২ হাজার ২৫২টি গবাদিপশু আমদানি করা হয়েছে। তারমধ্যে, গরু রয়েছে এক হাজার ৫৮০ টি ও মহিষ রয়েছে ৬৭২ টি। এসব পশু আমদানির মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
শুল্ক বিভাগ জানিয়েছে-২০০৩ সালের ২৫ মে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ নাফ নদীর পার্শ্বে একটি ক্যাডল করিডোর চালু করে। তখন থেকে এ করিডোর দিয়ে মায়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি শুরু হয়। প্রতিটি গরু-মহিষ থেকে ৫০০ টাকা ও প্রতিটি ছাগল থেকে ২০০ টাকা হারে সরকার এখানে রাজস্ব আদায় করে থাকে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে ১ হাজার ৯৬০ টি গরু, ৮৫১টি মহিষ আমদানি করা হয়েছে। এতে ১৪ লাখ সাড়ে ৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
টেকনাফের পশু আমদানিকারকেরা জানিয়েছেন, মায়ানমার থেকে আমদানি করা গবাদিপশু দেশে গোমাংসের চাহিদা পূরণে ব্যাপক অবদান রাখছে। মায়ানমার থেকে পশু আমদানি হ্রাস পেলে বৃহত্তর চট্টগ্রামে গবাদিপশুর সঙ্কট পড়ে যায়। অপরদিকে, প্রতিবেশী অন্যদেশ ভারত থেকে গবাদিপশু আমদানি অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় আমদানিকারকেরা এখন গবাদিপশু আমদানির জন্য মিয়ানমারের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
গবাদিপশু আমদানি দীর্ঘ ২২ দিন বন্ধ থাকায় টেকনাফের স্থানীয় গবাদিপশুর বাজার গুলোও সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। এখন বাজারগুলো আবার নিয়মিত বসছে। প্রতিদিন নৌকা বোঝাই করে মায়ানমার থেকে পশু আসছে, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে। এসব গবাদিপশু নিয়ে টেকনাফ গোদারবিল মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠ, সাবরাং ইউনিয়ন পারিষদ কমপ্লেক্স মাঠ, শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীর বেড়িবাঁধ ও পুরান বাজারের কয়েকটি স্থানে পশুর হাট গত ক’দিন ধরে বেশ জমে উঠেছে। বাজার গুলো আবার সেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মায়ানমারে গবাদিপশু স্বাস্থ্যবান হওয়ায় এবং দীর্ঘ ২২ দিন আমদানি বন্ধ থাকায় এখন আমদানিকৃত পশু গুলো চড়া দামে বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। আবার পশু আমদানি শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রাণ-চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ-মায়নমার সীমান্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষনা করেন, এমন একজন গবেষক নাম প্রকাশ নাকরার শর্তে বলেছেন-রোহিঙ্গা শরনার্থী সংকট সমাধানের জন্য বহুমুখী বৈশ্বিক চাপে মায়ানমার প্রায় দিশেহারা, বাংলাদেশ সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানে মায়ানমার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া সহ আরো বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের প্রতি মায়ানমার সরকারের চরম বৈরী মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় মায়ানমার থেকে আমদানিকৃত গবাদিপশু গুলো রোগাক্রান্ত কিনা, জীবানু আছে কিনা, গবাদিপশু গুলো খাওয়ার উপযোগী কিনা-ইত্যাদি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই গবাদিপশু বাংলাদেশে আনার অনুমতি দেয়া দরকার। কারণ মায়ানমার সুকৌশলে বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে কোনঠাশা ও হয়রানী করার চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, এবিষয়ে অবহেলা করলে আমদানীকৃত গবাদিপশুর মাধ্যমে অতীতের ন্যায় বার্ডফ্লো জাতীয় রোগ জীবানু ছড়িয়ে তা মহামারী আকারে রূপ নিতে পারে। এই গবেষক আরো বলেন-সরকারের প্রাণী সম্পদ বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে মায়ানমার থেকে আমদানিকৃত গবাদিপশুর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সেগুলো প্রবেশের অনুমতি দেয়া দরকার।