
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান ত্রিমুখী সংঘর্ষের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী এলাকায়। গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পুরো এলাকায় অধিকাংশ ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (ভোররাত) টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছি ব্রিজ সংলগ্ন পূর্বপাড়া এলাকায় হঠাৎ একটি গুলির খোসা এসে পড়ে আবু তাহেরের বাড়ির আঙিনায়। এ ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছি ব্রিজ সংলগ্ন পূর্বপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মিয়ানমারের ভেতরে রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। সেখান থেকে ছোড়া গুলিতে আগেও এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে, আরেকজন মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এপারে গুলির শব্দ ভেসে আসছে। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছে।”
একই এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের জানান, সংঘর্ষের কারণে নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন,নাফ নদীতে এখন আর মাছ ধরতে পারছি না। কয়েক দিন ধরে গোলাগুলির কারণে জেলেদের মাঝে ভয় কাজ করছে। অনেকের ঘরে চুলা জ্বলছে না, পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ফজল করিম বলেন,সীমান্তে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। দিন-রাত গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। কখন কী ঘটে যায়, সেই শঙ্কায় মানুষ ঘুমাতে পারছে না। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে।স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী, আরাকান আর্মি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ সরাসরি বাংলাদেশ অংশে শোনা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।এদিকে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
হোয়াইক্যংয়ে ১০–১২ পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে: টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গোলাগুলির শব্দ ও গুলির খোসা পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রীজ সংলগ্ন পূর্বপাড়ায় বসবাসকারী আবুল কালাম, আনোয়ার, আমির হোসেন, জোৎসনা ও নাজির হোসেনসহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবার নিরাপত্তার অভাবে নিজ নিজ ঘর ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন প্রতিনিয়ত গোলাগুলি শব্দ শুনা যাচ্ছে। পরপর দুইদিনের ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ ও অপরজন মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়। বর্তমানে দুইজনেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র দে বলেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন আটককৃত ৫২ জনকে কক্সবাজার জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মিয়ানমারের অভ্যন্তরের রাখাইন রাজ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে

পাঠকের মতামত