শীত আসে, শীত যায়—কিন্তু শীতার্ত মানুষের গায়ে ওঠে না সেই কম্বল। রোহিঙ্গা ও দুস্থদের জন্য বিদেশ থেকে অনুদান হিসেবে পাঠানো লাখ লাখ শীতবস্ত্র প্রায় ১ বছর ধরে পড়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে। মাশুলের খরচ কমাতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে গিয়ে উল্টো বাড়ছে দিন দিন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মারফিনি ফাউন্ডেশনের অনুদানে পাঠানো ৮টি ৪০ ফুট কনটেইনারভর্তি শীতবস্ত্র ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। এসব শীতবস্ত্র রোহিঙ্গা শরণার্থী ও দেশের দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। কনটেইনারগুলোতে রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার গরম কাপড়। কিন্তু বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় জটিলতা।
আমদানিকারক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মুসলিম ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’ জানায়, তারা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিপুল পরিমাণ বন্দর চার্জ ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে শুল্ক ও বন্দর মাশুল মওকুফের জন্য একাধিক দপ্তরে আবেদন করতে হয়—এনজিও ব্যুরো, কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে। এই প্রক্রিয়াতেই কেটে যায় মাসের পর মাস।
সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল লিটন মিয়া বলেন, দাতা সংস্থা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, তারা পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছানোর খরচ দেবে, কিন্তু খালাসের ব্যয় বহন করবে না। ফলে সরকারি অনুমোদন ছাড়া ত্রাণ ছাড় করানো সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, এনজিও ব্যুরো কাস্টম হাউসকে ডিউটি ফ্রি হিসেবে পণ্য ছাড়ের অনুরোধ জানালেও সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। পরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বন্দর চার্জের ৫০ শতাংশ মওকুফ করে। কিন্তু তত দিনে জমে যায় কয়েক কোটি টাকার মাশুল। আংশিক মওকুফে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় পণ্য খালাস আর সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩০৯ দিনে ৮ কনটেইনারের বিপরীতে বন্দর চার্জ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়, যা প্রতিদিন আরও বাড়ছে। পুরো চার্জ মওকুফ না হলে ত্রাণ ছাড় করানো বাস্তবসম্মত নয় বলে জানায় সংগঠনটি। এ কারণে তারা আবারও শতভাগ মাশুল মওকুফের আবেদন করেছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, এখনো বিল অব এন্ট্রি বা প্রয়োজনীয় দালিলিক কাগজ জমা না পড়ায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে পারছেন না। তবে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন এলে সহযোগিতা করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, বন্দর চার্জ মওকুফের সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে আসে, বন্দর কর্তৃপক্ষ কেবল সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে