এম. বেদারুল আলম :
জেলার অধিকাংশ কলেজে অধ্যক্ষ না থাকায় পড়ালেখার মান দিনদিন পিছিয়ে যাচ্ছে। জেলার ২২ টি কলেজের মধ্যে ১২টি কলেজে নিয়মিত অধ্যক্ষ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে জোড়াতালির মাধ্যমে চলছে এসব কলেজের শিখন শিক্ষন এবং প্রশাসন। কোন কলেজে অধ্যক্ষ নেই ৮ বছর কোথাও ৬ বছর। অনেক কলেজে উপাধ্যক্ষ পর্যন্ত নেই। ভারপ্রাপ্তের ভারে এ সব কলেজের শিক্ষার মান পর্যায়ক্রমে নি¤œগামি হচ্ছে। অনেকটা গামাগুড়ি দিয়ে চলছে জেলার এ সব কলেজ। অথচ অধ্যক্ষ নিয়োগ দানের কোন গরজ ও নেই এসব কলেজের গর্ভনিং বডির। ফলে জেলার অর্ধ লক্ষ শিক্ষার্থী সঠিক প্রশাসন এবং শিক্ষার গুনগতমান বজায় রেখে কাংখিত ফল অর্জন করতে পারছেনা। দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হার প্রতি বছর পিছিয়ে পড়ছে। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এর মারাত্বক প্রভাব পড়েছে। পিছিয়ে গেছে পাশের হার। অধ্যক্ষ হলো কলেজের প্রাণ অথচ অধ্যক্ষবিহীন চলছে জেলার ১২টি কলেজ। এর মধ্যে চলতি বছর সরকারি করণের আওতাভুক্ত কলেজ রয়েছে ৬টি। শিক্ষাবীদ কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল করিম চৌধুরীর মতে কক্সবাজারের রাজনীতিবীদ ও সচেতনমহল উদ্যোগী হলে এ সব কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ সময়ের ব্যাপার। যেহেতু সরকারি কলেজ ছাড়া এসব এমপিওভুক্ত কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে পারে গর্ভনিং বডি। প্রতিটি কলেজের যেহেতু গর্ভনিং বডি রয়েছে তারা ইচ্ছে করলে শূন্য পদে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে পারেন। সরকার যেহেতু বেতন দেবে সেহেতু পড়ালেখার মান বাচাঁতে - কলেজ বাচাঁতে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে কোন আপত্তি থাকার কথা নয়।
জানা যায়, জেলার ২২টি কলেজের মধ্যে ১২টি কলেজে নিয়মিত অধ্যক্ষ নেই দীর্ঘদিন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে কলেজ চালানোর কারনে কলেজেসমুহে অন্তঃকোন্দল লেগেই রয়েছে। অনেক কলেজে সিনিয়র অনেক শিক্ষককে জেষ্ঠতা ডিঙ্গিয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ায় কয়েকটি কলেজে শিক্ষকদের মাঝে চলছে কোন্দল। ফলে বেশিরভাগ শিক্ষক দলাদলিতে লিপ্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ কমে যাওয়ায় শ্রেণিকার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে শিক্ষার প্রতিযোগিতার বাজারে এসব কলেজ পিছিয়ে যাচ্ছে।
নিয়মিত অধ্যক্ষবিহীন ভারপ্রাপ্তের ভারে কুঁেজা হওয়া কলেজসমুহ এবং অধ্যক্ষের পদ শূন্য হওয়ার কার্যকাল হলো চকরিয়া বদরখালী কলেজে ২ বছর, সদরের ঈদগাঁও ফরিদ আহমেদ ডিগ্রি কলেজে ৫ বছর, রামু ডিগ্রি কলেজে ৬ বছর। এ কলেজে উপাধ্যক্ষ ও নেই দীর্ঘদিন। টেকনাফ কলেজে ৬ বছর, চকরিয়া সিটি কলেজে ৫ বছর, কুতুবদিয়া কলেজে ২ বছর, চকরিয়া ডিগ্রি কলেজে উপাধ্যক্ষ ও নেই ৬ বছর যাবৎ। উখিয়া কলেজে উপাধ্যক্ষ নেই দেড় বছর, মহেশখালী ডিগ্রি কলেজে ও নেই অধ্যক্ষ ৩ বছর যাবৎ। মহেশখালী বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে উপাধ্যক্ষ নেই ২ বছর।
এদিকে গত বছর সরকারিকরণ হওয়া ৬টি কলেজের মধ্যে নিয়মিত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নেই দীর্ঘদিন। ফলে এসব কলেজে চলতি বছরে কাংখিত ফলাফল অর্জিত হয়নি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়।
কক্সবাজার সরকারি কলেজ, কক্সবাজার সিটি কলেজ, কক্সবাজার হাভার্ড কলেজ, কক্সবাজার কমার্স কলেজে অধ্যক্ষ থাকলেও কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাড়া বাকি কলেজে তেমন ফলাফল অর্জন করতে পারেনি সদ্য প্রকাশিত এইচএসসিতে।
নিয়মিত অধ্যক্ষ না থাকার কারনে পড়ালেখার উপর বা প্রতিষ্ঠানের উপর কী প্রভাব পড়বে এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সালেহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, নিয়মিত অধ্যক্ষ না থাকার কারনে শিক্ষার গুণগতমান বিশেষ করে ফলাফলে নি¤œগামি হচ্ছে এটা চরম সত্য। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে কি নিয়মিত অধ্যক্ষের কাজ হবে এমন প্রশ্ন তিনি উল্টো জুড়ে দেন। তিনি বলেন যে ৬টি কলেজের সরকারিকরণ প্রক্রিয়াধীন সে সব কলেজে এখন আপাতত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া যাবেনা । অবশিষ্ট কলেজে গর্ভনিং বডি চাইলে যে কোন সময় অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে পারে। এতে আইনগত বাঁধা নেই। তিনি নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ দানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। কলেজ পর্যায়ে দেশের অন্যান্য জেলায় যেখানে শিক্ষা বিপ্লব ঘটছে সেখানে কক্সবাজার জেলার কলেজ সমুহ দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে সঠিক পরিকল্পনা এবং অযোগ্য গর্ভনিং বডির কারনে। কক্সবাজারের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার মান বাড়াতে সঠিক এবং সময়োপযোগি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় কক্সবাজার হবে মেধাশূন্য।